লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করার সময় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগের ১০ নেতাকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহউদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অপর পক্ষের।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পৌরসভার গণকবর ও জেলেপাড়া এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সালাহউদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ছেলে। তবে সালাহউদ্দিন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঢাকা থেকে রামগঞ্জ হয়ে লক্ষ্মীপুরে আসার সূচি নির্ধারিত ছিল। এ জন্য অন্তত ১০ জন সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা কেন্দ্রীয় নেতাদের বরণ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর সড়কের পাশে দাঁড়ান। এ সময় যুবলীগ সভাপতির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। হামলায় জেলা যুবলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল আজিমসহ ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সৈয়দ নুরুল আজিম বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন মোটরসাইকেলে এসে এ হামলা চালায়। তবে সালাহউদ্দিন টিপু বলেন, নুরুল আজিমের সাথে তার বাদানুবাদ হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি। নুরুল আজিম মিথ্যাচার করছেন।
হামলায় আহত অন্য ব্যক্তিরা হলেনÑ সদর (পূর্ব) থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপম হাওলাদার, কর্মী আবদুল মতিন, মো: তারেক, মো: জামাল উদ্দিন, আবদুল হাশেম, খুরশিদ আলম, আবুল কাশেম, মো: সবুজ ও মনির হোসেন। আহত ব্যক্তিরা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নুরুল আজিম আগে তাহের পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিল। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি ছিল নুরুল। ওই মামলায় মেয়র তাহেরের বড় ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। পরে তাদের সাজা মওকুফ করা হয়। নুরুল আজিম বাবর নিজেকে জেলা যুবলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ঘোষণা করলে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ হয়ে জানানো হয়Ñ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। মারধরের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



