জমি মাত্র দুই বিঘা! সেই জমিতে সারি সারি গাছ। তিন থেকে চার ফুট উচ্চতার গাছে ধরেছে দেড় থেকে চার কেজি ওজনের পেঁপে। বেশি ফলনশীল ও আকর্ষণীয় রঙের দেশী জাতের পেঁপে হওয়ায় আকৃষ্ট হন ক্রেতারা। পেঁপে চাষে চমক দেখিয়েছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন (জোতি)।
উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক জসিম উদ্দিন তার ছোট ভাই মতিয়ারকে সাথে নিয়ে পেঁপে বাগানে কাজ করছেন। দুই বিঘা জমিতে গাছে অগণিত পেঁপে ঝুলছে। চারা লাগানোর তিন থেকে চার মাসের মাথায় গাছে ফল আসা শুরু করে। দেশীয় জাতের পেঁপে গাছটি উচ্চতায় সর্বোচ্চ পাঁচ-ছয় ফুট হয়ে থাকে।
কৃষক জোতি বলেন, এ সময়ে বাজারে সবজির অনেকটাই সঙ্কট থাকে। তাই স্থানীয় বাজারে পেঁপের চাহিদাও ভালো। এমন উৎপাদন অব্যাহত থাকলে প্রায় চার লাখ টাকার ওপরে পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, মুলা, লালশাক, ডাঁটাশাকের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে পেঁপে চাষ করেছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় আমি পেঁপে চাষের দিকে ঝুঁকেছি। প্রথমবার চারা লাগানোসহ বিভিন্ন পরিচর্যায় দুই বিঘা জমিতে রাসায়নিক সার, জৈব সার, খৈল শ্রমিক মিলে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। তবে জসিম বলেন, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কাক্সিক্ষত সহায়তা পাইনি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা তেমন খোঁজখবর নেন না।
বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল আওয়াল খান বলেন, জোতি একজন সফল কৃষক। কৃষিকাজে তার সফলতা দেখে এলাকার আরো অনেকে কৃষি কাজে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, স্থানীয় পেঁপে চাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকরা কোনো সমস্যা নিয়ে না এলে আমরা কিভাবে অবগত হবো। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে বলা হয়েছে।