বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার পঞ্চম দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার চতুর্থ দফায় দ্বিতীয় দিনে আরো ৩ সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

এদিন সাক্ষ্য দিলেন, সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা, সালেহ আহমদ ও বেবি বেগম। সাক্ষীদাতা সবাই বিভিন্নভাবে ওসি প্রদীপের হাতে নির্যাতিত। এ নিয়ে ৪ দফায় মোট ২০ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছে। তবে জেরা শেষ হয়েছে ১৯ জনের। আগামী ১০ অক্টোবর বেবি বেগমের জেরার মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হবে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এ বিচার কাজ শুরু হয়।

এর আগে গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদি ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সাথে একই গাড়িতে থাকা সঙ্গী সাহেদুল সিফাত। পরে দ্বিতীয় দফায় চার দিনে চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তৃতীয় দফায় তিন দিনে পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলায় চতুর্থ দফায় দু’দিনে পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়।

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। পরে এ ঘটনায় ওই বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলার তদন্তভার দেন র‍্যাবকে।

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।