বরগুনা সদর উপজেলায় ৩য় শ্রেনীতে পড়ুয়া এক শিশুকে পিটিয়ে জখম করেছেন স্থানীয় এক মুদি দোকানদার। রোববার বিকেলে সদর উপজেলার ৮ নং ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিশু পার্শ্ববর্তী পার্বতী গ্রামের বাসিন্দা শামীম হাওলাদারের ছেলে মো. শাওন।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে পাশের গ্রাম কলাতলায় ঘুরতে যায় ১১ বছর বয়সী শাওন। একটু পর কলাতলা গ্রামের বাদশা মল্লিকের (৪৫) মুদি দোকানে গিয়ে বসে শাওন। এই সময় দোকানদার বাদশা ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুম থেকে জেগে শাওনকে দোকানের বসে থাকতে দেখে টাকা ও খাবার চুরির অভিযোগে শাওনকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে শাওনের গলা পা দিয়ে চেপে ধরে এবং পেটে লাথি মারতে থাকে। এতে শাওন মলত্যাগ করে দেয়। পরে শাওনের পরিবার এসে শাওনকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শাওনের চাচা সারোয়ার হোসেন মিন্টু বলেন, বিকেল
৫টার দিকে টিভি দেখতে বসে শাওন। একটু পরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাইরে ঘুরতে বের হয়ে পাশের কলাতলা গ্রামে যায় এবং মুদি দোকানদার বাদশা মল্লিকের দোকানে বসে।
তিনি বলেন, তখন দোকানদার বাদশা দোকানে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে শাওনকে বসা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে স্টিলের লম্বা টর্চ লাইট দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এক পর্যায় শাওনের পেটে লাথি মারেন এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন। এতে শাওন গুরতর আহত হয়।
সারোয়ার হোসেন মিন্টু বলেন, 'একটি ১১ বছরের শিশুকে যে এত নিকৃষ্ট ভাবে মারতে পারে সে কখনও মানুষ হতে পারেনা। আমরা নির্যাতনকারী দোকানদার বাদশার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'
এদিকে অভিযুক্ত বাদশা মল্লিকের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। শিশুটির নানা সন্ধ্যার দিকে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






