সিলেটের কানাইঘাটে চাউরা উত্তর গ্রামে মাটিতে পড়ে থাকা সচল বিদ্যুতের লাইনে বিদ্যুতায়িত হয়ে দাদা ও নাতির আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউপির চাউরা উত্তর গ্রামে এ আকস্মিক ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়েছেন অপর একজন।
নিহতরা হলেন স্থানীয় ছইদ আলীর ছেলে ফখরউদ্দিন (৬০) ও তার নাতি কুয়েত প্রবাসী রুহুল আমিনের পুত্র আরিফুল ইসলাম (১০)। এ সময় তাদের দু’জনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ফয়সল আহমদ (৩২)।
এ ঘটনায় পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উদাসীনতার অভিযোগ এনে বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি ও থানার ওসির আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। ঘটনার পর পরই পালিয়ে যান কানাইঘাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার রাতে ঝড়বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের মেইন লাইন ছিঁড়ে ফখরউদ্দিনের বাড়ির পাশে মাটিতে পড়ে। সকাল ৮টার দিকে নিহত ফখরউদ্দিন মুঠোফোনে বৈদ্যুতিক লাইন ছিঁড়ে পড়ার বিষয়টি পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে জানালেও জোনাল অফিসের কেউ সাড়া দেননি। এমনকি এলাকার আরো কেউ কেউ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে সংবাদ দিলেও সাড়া মেলেনি। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা কারণেই আকস্মিকভাবে এ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, অভিযোগ এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টায় ফখরউদ্দিনের নাতি আরিফুল ইসলাম স্কুল থেকে ফেরার পথে মাটিতে থাকা বিদ্যুৎ লাইনে বিদ্যুতায়িত হয়। ঘটনা দেখতে পেয়ে ফখরউদ্দিন নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা বিদ্যুৎ অফিসের মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, নিহতদের লাশের সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



