সাভারের আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদীতে শ্রমিকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত শিশু ও নারীসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারটি নদীতে ডুবে গেলে বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ ঘটনায় নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করে।
এ ঘটনায় মৃতরা হলেন- শিউলি বেগম (২০), ইমরান (৩), ফারহানা মনি (৫), আরমান (৪) ও জেসমিন (১৫ মাস)।
নিখোঁজ দু’জন হলেন- রুপায়ন (৩০) ও আরমিনা (৮)।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন ৫টি লাশ উদ্ধার ও দু’জন এখনো নিখোঁজ থাকার খবর নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাভারের আমিনবাজার থেকে গাবতলী কয়লার গুদামে কাজ করার জন্য ১৮ জন শ্রমিক নিয়ে সকালে রওনা দেয় একটি ট্রলার। পথে বালুভর্তি একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায় ট্রলারটি। এ সময় অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ হন দুই নারী ও পাঁচ শিশু। তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-২-এর কমান্ডার মো: আবুল বাসার বলেন, শনিবার সকালে তুরাগ নদীর উত্তরপাশ আমিনবাজার থেকে গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশনে একটি নৌকায় করে কাজে যাচ্ছিলেন ১৮ জন শ্রমিক। যাদের বেশিরভাগ নারী ও তাদের শিশু সন্তান। তারা ল্যান্ডিং স্টেশনের পাশে কয়লার ডিপোর শ্রমিক ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, বাল্কহেডের সাথে ধাক্কা লেগে নৌকাটি তলিয়ে গেলে দুই নারী ও পাঁচ শিশুসহ মোট ৭ জন নিখোঁজ হন। আর নৌকায় থাকা বাকিরা সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। আমরা খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট সকাল ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। হেড কোয়ার্টার থেকে দুটি, সদরঘাট থেকে দুটি, জোন প্রধান থেকে একটি ও সাভার থেকে একটি ইউনিট এতে অংশ নেয়।
আমিনবাজার নৌ-পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর শেখ বলেন, উদ্ধার হওয়া পাঁচটি লাশ আমরা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছি। অপর দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।






