পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া রো রো ফেরি আমানত শাহ একটি অতি পুরনো, ফিটনেসবিহীন ও লক্করঝক্কর পর্যায়ের ফেরি। এর তলায় ছিল ফুটো। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেরিটি যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করছিলো।

আমানত শাহ উদ্ধারে তৃতীয় দিনের মতো অভিযান শুরু করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। এ অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও বিআইডাব্লিউটিএ-এর ডুবুরি দলের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার কমান্ডার এস এম ছানোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ডুবে যাওয়া ফেরিতে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

সবশেষ তথ্যানুযায়ী ডুবে যাওয়া ফেরিতে আরো চারটি পণ্যবাহী ট্রাক ও কয়েকটি মোটরসাইকেল আটকে রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে। ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে এ পর্যন্ত ১০টি ট্রাক ও ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ‘প্রত্যয়’ নামের উদ্ধারকারী জাহাজ। হামজার চেয়ে যার ক্ষমতা অনেক বেশী। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছতে পারেনি প্রত্যয়।

স্রোতের বিপরীতে জাহাজটি ঘণ্টায় মাত্র সাড়ে তিন থেকে পৌনে চার কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করতে পারে। পাটুরিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জের নৌপথ দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। সেই হিসাবে কবে নাগাদ উদ্ধারকারী জাহাজ পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার দুপুরে প্রাপ্ত সবশেষ তথ্যানুযায়ী মুন্সিগঞ্জের পদ্মা-মেঘনা মোহনা
এলাকায় রয়েছে ‘প্রত্যয়’। উদ্ধারকারী ওই জাহাজটি হামজার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী। কাজেই ওই জাহাজটি এসে কাজ শুরু করলে উদ্ধার অভিযান সহজ হবে বলে জানান হামজার কমান্ডার ছানোয়ার হোসেন।

গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ৫ নম্বর পন্টুন এলাকায় এসে ১৪টি ট্রাক ও কিছু মোটরসাইকেলসহ ডুবে যায় আমানত শাহ নামের বড় আকারের এই ফেরিটি।

অপরিদকে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটসূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া রো রো ফেরি আমানত শাহ ৪১ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলাচল করছিল। ছিলো না ফিটনেসও। বার বার ডকইয়ার্ডে নিয়ে মেরামত করা হতো। সম্প্রতি ফেরিটির তলদেশ ফুটোও হয়েছিল। এরপরও লক্করঝক্কর এই ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছিল।

দিনে ২/৩ টির বেশি ট্রিপ ওই ফেরি দিত পারত না। প্রায়ই অকেজো হয়ে পাটুরিয়ায় নোঙ্গর করে থাকত।

অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ অনুযায়ী, একটি নৌযানের নিবন্ধনের মেয়াদ ৩০ বছর হয়। বিশেষ জরিপের (ফিটনেস) মাধ্যমে এরপর দু’বার পাঁচ বছর করে নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানো যায়। তবে ৪০ বছরের বেশি সময় কোনোভাবেই কোনো নৌযান চলাচল করতে পারে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযানের তথ্য অনুযায়ী, ফেরি আমানত শাহ ১৯৮০ সালে তৈরি। ৩৩৫ জন যাত্রী ও ২৫টি যানবাহন বহন করতে পারে এটি। ৮০৬.৬০ টন ওজনের ফেরিটি সর্বোচ্চ ১০.২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারে।

জানা গেছে, বুধবার ট্রিপ নিয়ে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ফিরে ওই দিনই পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতিতে ফেরিটি মেরামত করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

সকালে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর মাঝ নদী পার হওয়ার পর ফেরিতে পানি উঠতে শুরু করে। পরে ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাটে নোঙর করানো হয়। এরপর যানবাহন আনলোড করার সময় ফেরিটি এক পাশে কাত হয়ে ডুবে যায়।