পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জান্নাতুল নামে ৯ বছরের এক কাজের মেয়েকে খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত গৃহকর্তা মিঠুকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। গৃহকর্মী জান্নাত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
সাঁথিয়া উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের (ক্যানাল পাড়ার) জান বক্সের প্রথম পক্ষের দ্বিতীয় সন্তান শিশু জান্নাতুলকে অভাবের কারণে মা নুরজাহান ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় একটি বাসায় কাজের জন্য পাঠান। উপজেলার রায়েকমারী গ্রামের মৃত আবদুর রহমান বিএসসির স্ত্রী সাঁথিয়ার ক্ষেতুপাড়া আব্দুস সাত্তার উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মায়া খাতুন মেয়েটির দায়িত্ব নেন তার ছেলে মিঠুর বাসার গৃহকর্মীর জন্য।
সেখানে গৃহকর্তা মিঠুর স্ত্রীর নির্যাতনে অতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে ছোট জান্নাতুল (৯)। গৃহকর্তার স্ত্রী শাপলা খাতুন প্রায় জান্নাতুলকে মারধর ও গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিত। গত ২৯ অক্টোবর ৯ মাস পর তাকে বাসে ঢাকা থেকে পাবনায় পাঠায়। মিঠুর মা মায়া খাতুন জান্নাতুলকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় গৃহকর্মীর মা নুরজাহান মেয়ের শরীরে পোড়ার দাগ ও ক্ষত দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
৩০ অক্টোবর নুরজাহান খাতুন ঢাকার খিলক্ষেত থানায় গৃহকর্তা মিঠু ও তার স্ত্রী শাপলাকে (২৮) আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মিঠুকে আটক করে রোববার জেলে পাঠানো হয়েছে। আর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জান্নাতুলকে শনিবার রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জান্নাতুল জানায়, কাজ করতে বা নির্দেশ পালন করতে বিলম্ব হলেই মিঠুর স্ত্রী শাপলা শুরু করত অসহনীয় অত্যাচার। যাতে শব্দ বাইরে না আসে তার জন্য মুখের মধ্যে গামছা পুরে দিত। আমি বাড়ি আসতে চাইলে তারা নিষেধ করত। আমার মায়ের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে দিত না। বাড়িতে এসে নির্যাতনের কথা কাউকে যেন না বলি সে জন্য আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। এমনকি শাপলা বলে দিয়েছিল বাড়িতে এসে আমি যেন বলি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলাম। মা নুরজাহান বলেন, ‘পেটের ভাতের জন্য কাজে পাঠিয়েছিলাম, অত্যাচারের জন্য নয়।’ তিনি মেয়ের প্রতি নির্যাতনের বিচার দাবি করেন। অভিযুক্ত মিঠুর মা বলেন, জান্নাতুলকে আমি কাজের জন্য ঢাকা পাঠাই। সেখানে সে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বলেই ফোন কেটে দেন।