দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে খনি কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খনি শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বৈগ্রাম চৌরাস্তার মোড়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ও শ্রমিক লীগের যৌথ আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পদক মো: আবু সুফিয়ান লিখিত বক্তব্যে বলেন, খনির কয়লা উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থানীয় শ্রমিক খনির সূচনা থেকে প্রায় ২০-২২ বছর ধরে ৪০ থেকে ৪৫ তাপমাত্রায় ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলন করছেন। আমাদের রক্ত কনিকায় কয়লা মিশে গেছে। এই শ্রমের ঘাম ঝরানো প্রতিটি ফোটায় মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণের স্বপ্ন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত বছরের ২৬ মার্চ বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার ঘোষিত লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছিলাম। এর মধ্যে কোম্পানির উন্নয়ন ও উৎপাদন সচল রাখার লক্ষ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত একটি পত্র ০৬/০৭/২০২০ইং তারিখে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১২/০৬/২০২১ ইং তারিখে শ্রমিকদের সাথে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু শ্রমিকদেরকে কাজে যোগদান করার টালবাহানা করায় চুক্তি মোতাবেক আমরা কথা বলতে গিয়ে ২৫/০৭/২০২০ ইং তারিখে শ্রমিকসহ নেতাকর্মীদের নামে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৫/২৩ ধারায় ৪১ জন ও ০৮/০৩/২০২১ ইং তারিখে একই ধারায় ২৩ জনকে আসামি করে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। কাজে যোগদান করতে না পারায় বর্তমানে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
এদিকে কোয়ারেন্টিনে থাকা এখনো প্রায় ৯৫০ শ্রমিক রয়েছেন, তাদেরকে আংশিক বেতন দেয়া হচ্ছে। খনিতে কিছু শ্রমিককে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ মাস ধরে খনি কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে হয়রানি করছে। নিরূপায় হয়ে আন্দোলনে নামতে তারা বাধ্য হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
আবু সুফিয়ান বলেন, অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিতে পুনর্বহালসহ তিন দফা দাবি মেনে না নিলে চলতি মাসেই শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে। একইসাথে এর দায়ভার খনি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন খনি শ্রমিকরা।
সংবাদ সম্বেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মো: রবিউল ইসলাম। জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রতন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, অর্থ সম্পাদক হযরত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: মানিক। এ সময় সংগঠনের সকল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



