কক্সবাজার সদরের লিংকরোড স্টেশনে দূর্বৃত্তদের হামলায় জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টায় হামলার ঘটনায় আহত কুদরত উল্লাহ সিকদারের দায়ের করা মামলাটি নথিভূক্ত হয়েছে। এজাহারে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষায় আসামিদের নাম প্রকাশ করেননি ওসি।

গত ৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার লিংকরোড স্টেশনে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার ছোট ভাই কুদরত উল্লাহ সিকদারের ব্যক্তিগত অফিসে অবস্থান করছিলেন। কুদরত উল্লাহ আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রার্থী। তারা দুই ভাইসহ
কর্মি-সমর্থকদের সাথে নির্বাচনী আলাপ করছিলেন।

এসময় একদল দূর্বৃত্ত মোটর সাইকেল যোগে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে এবং কুপিয়ে জখম করে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহতদের মধ্যে কুদরত উল্লাহ’র অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওইদিন রাতে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

শনিবার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা জহিরুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চিকিৎসকরা চমেকে প্রেরণ করেন। রোববার দুপুরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ ছিল, ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে দূর্বৃত্তরা এ হামালা চালিয়েছে।

ওসি মুনীর-উল-গীয়াস বলেন, গত ৫ নভেম্বর রাতে কক্সবাজার সদরে লিংকরোড স্টেশনে দূর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার ও তার ভাই কুদরত উল্লাহ সিকদারসহ তিনজন। পরে ঘটনার দুইদিন পর চমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জহিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে আহত কুদরত উল্লাহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ২১ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলাটি নথিভূক্ত করেছে।

‘তবে অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষায় আসামিদের নাম প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করছি না।’

মামলাটি নথিভূক্ত হওয়ার পর থেকে পুলিশ এজাহারভূক্ত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান ওসি।