সুন্দরবনসংলগ্ন ভারত সীমান্তে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা। এখানে প্রতিকূল পরিবেশেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর দুর্যোগপ্রবণ উপজেলা হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস লেগেই থাকে। এ জেলার বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী অতিদরিদ্র। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় প্রায় ১৪৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের প্রায় ৪০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালী, আটুলিয়া, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জ ও রমজাননগর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি জায়গায় বাঁধ খুব ঝুঁকিপূর্ণ। পাউবোর সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ এর আওতায় শ্যামনগরে দুটি পোল্ডার রয়েছে। ৫ নম্বর পোল্ডারের অধীনে ডিআরএমইপি (কম্পোনেন্ট-৩) প্রকল্পের আওতায় ১৭.২৯৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। মামুন সাহারা (জেভি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৫৫৫৮০০ নম্বর ই-টেন্ডার আইডির বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে পশ্চিম দুর্গাবাটি খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ৪৭০ মিটার মাটির কাজ, জিও ব্যাগ স্থাপন, জিও ব্যাগ প্লেসিং ও ডামপিংয়ের কাজ করছে। ডিজাইন অনুযায়ী প্রতিকূল পরিবেশেও কাজের গুণগতমান বজায় রেখে কাজ এগিয়ে চলছে। তিন মাস মেয়াদিতে কাজের প্রাক্কলিত মূল্য তিন কোটি ৪৪ লাখ ৯৩ হাজার ১৭৫ টাকা, চুক্তিমূল্য দুই কোটি ৮৯ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ টাকা। প্রতিবস্তা জিও ব্যাগে ২০০ কেজি বালুভর্তি করে কাজ করা হচ্ছে। দূর থেকে বালু ও মাটি নৌকায় করে এনে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষকুমার মণ্ডল জানান, কাজটি মানসম্মতভাবে হচ্ছে। ঘের মৌসুমে বাঁধের সংস্কার করা হলে মাটি ও বালুর চাহিদা পূরণে সরকারের খরচ সাশ্রয় হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা জানান, বাঁধের উভয় পাশে বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে বাঁধ টেকসই হয়।
এ প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম জগলুল হায়দার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্যামনগরবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
পাউবো সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, পাঁচটি প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। শিডিউল মোতাবেক কাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত হয়ে কাজ বুঝে নেয়া হবে। এখন সাময়িকভাবে ভাঙন রোধ করার কাজ হলেও জাইকার অর্থায়নে টেকসই বাঁধ হবে। গাবুরায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে জনগণ ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।
শ্যামনগর পওর উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, বাঁধের সংস্কার কাজের অগ্রগতি দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন।
আসন্ন মৎস্যঘের মৌসুমে ৫ নম্বর পোল্ডারের আওতায় প্রায় ১০ কিলোমিটার অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার বা টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে শ্যামনগর উপকূলবাসী।