প্রতি বছর পাহাড়ি এই হাতির দল ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করছে। চলতি বছর বন্য হাতির দল প্রথমে বোরো ধান, গাছের কাঁঠাল খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। পরে আমনের বীজতলা মাড়িয়ে নষ্ট করে। এখন আমনের পাকা ধান বিনষ্ট করছে। খাদ্যের সন্ধানে হাতিগুলো লোকালয়ে এসে ছুটোছুটি করে। হাতির তাণ্ডবে এখন তাদের রাত কাটে নির্ঘুমে। ভারাক্রান্ত নিয়ে কথাগুলো বললেন হাসমত আলী।

একই ধরনের কথা বললেন আশালতা নেংমিনজা, ডেবিট নকরেকসহ কয়েকজন কৃষক।

শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, পাহাড়ি বন্য হাতির দল ভারতীয় মেঘালয় রাজ্যের চেরেংপাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে আস্তানা করেছে। দিনে পালিয়ে থাকে গহীন অরণ্যে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নেমে আসে উপজেলার পানিহাটা এলাকার ফসলের জমিতে। পানিহাটা মৌজার ফেকামারীতে আমন ধানক্ষেত বিনষ্ট করে দিচ্ছে হাতি।

পানিহাটা এলাকায় অর্ধশতাধিক কৃষকের প্রায় ৪০-৫০ একর জমির পাকা আমন ধান নষ্ট করেছে হাতি। কারো কারো ক্ষেত একেবারে বিনষ্ট করেছে। আবার কারো ক্ষেত আংশিক নষ্ট হয়েছে। হাতির এমন আচরণে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

পানিহাটা এলাকার এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সভাপতি যোসেফ মারাক বলেন, কয়েক দিন ধরে আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে হাতির দল। বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওয়াসিফ রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে পরবর্তী আবাদের জন্য তাদেরকে উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ ও সার বিতরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন বলেন, হাতির তাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে একটা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেচ্ছাসেবক ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে সিমান্ত প্রতি ইউনিয়নগুলোতে ১০টি করে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন চার্জার লাইট বিতরণ করা হবে। যা হাতি তাড়াতে সহায়তা করবে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রনোদনার মাধ্যমে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।