পটুয়াখালী সদরে বিএনপির গণঅনশন কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলায় অনশনে অংশ নেয়া অন্তত ৮ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাকারিয়া আহমেদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপর আহতরা হলেন জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মো: শাহিন মিয়া ওরফে ভিপি শাহিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা সীমা, মহিলাদলের সদস্য কহিনুর, সালেহা বেগম, শ্রমিকদলের বাদশা। আহত অপর ১ জনের নাম জানা যায়নি। এদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শনিবার বেলা ১০টার দিকে শহরের বনানি এলাকায় বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে দেশব্যপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে জেলা বিএনপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচি শুরুর আগেই শহরের কাঠপট্টি এলাকার ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করে ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে চলে যায়।

পরে আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু ছাত্রদল নেতা জাকারিয়ার অবস্থার অবনতি হলে তাকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সময় উপস্থিত সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী মাহবুব হোসেন জানান, সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অফিসের মধ্যে কর্মসূচি পালনের আয়োজন করেছি, সেখানেও সরকারের লালিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালো। আমাদের ৮ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করলো। এটাই হলো বর্তমান সরকারের চরিত্র। এর আগে আমরা রাস্তায় অনশন কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের অনুমতি দেয়নি। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সদর থানার ওসি মো: মনিরুজ্জামান জানান, এ রকম কোন ঘটনা তার জানা নাই। কেউ তাকে এখন পর্যন্ত লিখিত বা মৌখিকভাবেও অবগত করেনি। তারপরেও বিষয়টির খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

এ ঘটনার পর বিএনপির পূর্ব-নির্ধারিত অনুষ্ঠান কর্মসূচি শুরু হয়।