রাণীনগরে পাকা ধানের গন্ধে কৃষকদের মনে এখন বেশ প্রফুল্লতা। ধান কাটতে হাতে কাচি নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অন্যদিকে মাঠ থেকে নতুন ধান বাড়িতে তোলার জন্য আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কৃষাণীরা।
রাণীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাণীনগর উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ১৫০ মেট্রিকটন ধান। এই এলাকায় বিনা-১৭, স্বর্ণা-৫, ব্রিধান-৭১, ব্রিধান-৭৪, ব্রিধান-৭৫, ব্রিধান-৮৭, ৪৯, রাশিয়ান (আমন) এবং আতব জাতের ধানের চাষবাদ হয়েছে। তবে এখন কৃষক স্বর্ণা-৫ ও রাশিয়ান ধান কাটছে। এবার আবহাওয়ার অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন পেয়ে কৃষক এবার বেশ খুশি।
উপজেলার করজগ্রামের কৃষক সুর্ষ বলেন, রোপনের পর ধান গাছে নানা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। এতে চিন্তায় পরেছিলাম। অনেকবার কীটনাশক স্প্রে করার ফলে ফসলকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে পেরেছি। ফলন খুব ভাল হয়েছে। নতুন ধান পেয়ে আমি আনন্দিত।
কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছর ফসলে ব্যাপক পোকামাকড়ের আক্রমণ হওয়াতে খরচের পরিমাণে বেশি হয়েছে। ধানের যা ফলন হয়েছে, তাতে আমি অনেক খুশি। কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, কথাটি সরকারের মনে রাখা দরকার। তাই কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের নিকট আবেদন জানান তিনি ।
উপজেলার সিম্বা গ্রামের সাজু, আধঘলা গ্রামের মহসিন, আমগ্রামের মকবুল ও বুলু জানান, এখন আমাদের এলাকায় পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। বর্তমান বাজারে স্বর্ণা-৫ প্রতি মণ এক হাজার ১০ টাকা থেকে এক হাজার ২০ টাকা, ৪৯ জাতের ধান প্রতি মণ এক হাজার ৬০ টাকা, রাশিয়ান (আমন) এক হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ হারে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের ফলন হচ্ছে। আর রাশিয়ান (আমন) ধান প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ হারে ফলন হয়েছে।
দামকুড়ি গ্রামের গোলাম বলেন, নির্বাচন থাকায় বাহির থেকে কাজের লোকজন চাহিদামত না আসায় শ্রমিকের মজুরি এবার একটু বেশি। যার ফলে প্রতি শতক ১৫০-১৬০ টাকা দরে ধান কাটতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় আমনের আবাদ ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা জুড়ে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান কেটে আলুর ও সরিষার চাষাবাদ করেন এ জন্য দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ফলনও ভালো হচ্ছে আবার ধানের বাজার দরও বেশ ভালো রয়েছে। আশা করছি, এ বছর আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।





