কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার পর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সরে গেছেন ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ নামের একটি পোশাক কারাখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করার আশ্বাস পাওয়ার পর দুপুর পৌণে ২টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
ব্যস্ততম এ মহাসড়ক দীর্ঘ সময় অবরোধ করে রাখায় উভয় দিকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিপাকে পড়েন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরাসহ অন্য যাত্রীরা।
জানা যায়, প্রায় তিন মাস যাবৎ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে না ওই পোশাক কারাখানা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে অন্তত তিন হাজার ক্ষুব্ধ শ্রমিক ও কর্মচারীরা বুধবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার বেলাশহর মিলগেইট এলাকায় অবরোধ করে। চেষ্টা করেও অবরোধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে শ্রমিকদের তোপের মুখে পড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুন নাহার। অবরোধ শুরুর পর থেকে মালিকপক্ষের লোকজন মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখায় বিপাকে পড়ে প্রশাসন।
পরে পুলিশ ওই কারখানা থেকে এর জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) হাবিবুর রহমানকে ডেকে অবরোধস্থলে আনেন। পরে তিনি মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করার প্রতিশ্রতি দিলে দুপুরে পৌণে ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিক-কর্মচারীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।
শ্রমিক নূরজাহান জানান, প্রতি মাসের ১০ তারিখে আমাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত কাজ করে পোশাক তৈরি অব্যাহত রাখলেও গত এক বছর যাবৎ আমাদের বেতন অনিয়মিত। গত তিন মাস যাবৎ আমাদের বেতনের একটি টাকাও পরিশোধ করছে না। এমন অবস্থায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
অপর শ্রমিক মোহাম্মদ হোসেন জানান, বেতনের জন্য আমরা প্রতিবাদ করলেই মালিকপক্ষ আমাদের চিহ্নিত করে ছাঁটাই করে দেয়। তাদের (মালিকপক্ষে) সব কিছু ঠিক আছে, শুধু আমাদের বেতন দিতেই সমস্যা। আমাদের দিয়ে ওভারটাইম করায় কিন্তু সেই ওভারটাইমের টাকাও পাই না। গার্মেন্টেসের প্রোডাক্টশন কোনো মাসেই আমরা কম দেই না। কিন্তু মাস শেষে আমাদের বেতন নাই!
কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল রানা জানান, বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় অবরোধে অচল হয়ে পড়ে মহাসড়ক।
এ ব্যাপারে জানতে ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ গার্মেন্টের পরিচালক আলমগীর হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরেফিন ছিদ্দিকী জানান, আমরা অনেক চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে মহাসড়ক অবরোধ মুক্ত করেছি। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।






