মাত্র ১০৩ টাকা খরচ করে স্বপ্ন পূরণ হলো মাদারীপুরের ২৪ তরুণ-তরুণীর। ঘুষ-তদবির ছাড়াই পুলিশে চাকরি হয়েছে তাদের। মূল্যায়ন হয়েছে মেধা ও যোগ্যতার। পূরণ হয়েছে হতদরিদ্র বাবা-মার স্বপ্ন। এতে আনন্দে কেঁদে ফেললেন অনেকে। আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার আহ্বান জানালেন পুলিশ সুপার।
মাদারীপুরে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেয়ে মহাখুশি ২৪ তরুণ-তরুণী। ঘুষ ছাড়াই যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশে ট্রেইনি কনস্টেবল পদে সদ্য নিয়োগ পাওয়া এই তরুণ-তরুণীরা দেশসেবার মহান পেশায় যুক্ত হওয়ায় সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন। এই ২৪ জনের মধ্যে ২১ জন তরুণ এবং তিনজন তরুণী। বিভিন্ন কোটা থেকে তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেয়া হয়। যেমন সাধারণ কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পুলিশ পোষ্য কোটা এবং আনসার ও ভিডিপি কোটা। শুধু চাকরি নয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের সব ধরনের মেডিক্যাল চেকআপ বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল। অভিভাবকরা কখনো বিশ্বাসই করতে পারেননি তাদের সন্তানদের টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে। এ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর পুলিশ লাইনসে টিআরসি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, এরা শুধু ১০৩ টাকার আবেদন ফরম কিনে চাকরি পেয়েছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। অনেকেই বাবা-মাহারা। আবার কেউ কেউ অতিদরিদ্র কৃষক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান ও ট্রাক চালকের কাজ করছেন।
পুলিশে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নাহিদ হোসেন বলেন, অভাবের সংসারে বড় হয়েছি। কোনো দিন ভাবিনি ঘুষ টাকা ছাড়া সরকারি কোনো চাকরি পাবো; কিন্তু শুধু ১০৩ টাকায় আবেদন করে পুলিশের চাকরি পেলাম। আমার পরিবারের সাথে কথা বলেছি, তারা আমার চাকরির কথা শুনে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তারা শুনে অবাক হয়েছেন যে টাকা ছাড়াও আজকাল পুলিশে চাকরি হয়।
নাম-পদবি প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সময়ে উৎকোচ, ঘুষ বা তদবির ছাড়া যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি অবিশ্বাস্য হলেও এবারের নিয়োগে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নাহিদদের মতো দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতায় পুলিশে চাকরি লাভ করায় এ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে বলে তিনি অঅশা প্রকাশ করেন।