যৌতুকের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম তামান্না আক্তার কণা (২০)। ঘটনাটি ঘটেছে মনোহরগঞ্জ উপজেলার আলোকদিয়া ভূঁইয়া বাড়িতে। গত সোমবার বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। নিহত কণা লাকসামের চলন কলেজের বর্তমান শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
নিহতের ভাই সজিব আহমেদ বিপ্লব জানান, ছয় মাস আগে মনোহরগঞ্জ উপজেলার আলোকদিয়া ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার অহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি রাশেদুল ইসলাম টিটুর সাথে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী তাকে নির্যাতন করত। এ মধ্যে ধার-দেনা করে এক লাখ টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা তামান্না এইচএসসি পরীক্ষার বিদায় অনুষ্ঠান শেষে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার সময় নিয়ে যাবে বলে তাদেরকে জানানো হয়। গত রোববার বিকেলে কণা বাকি এক লাখ টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা নেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বেদম মারধর করে। এতে সে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দিকে ঘটনার পর থেকে তামান্নার স্বামী রাশেদুল ইসলাম টিটু, শ্বশুর অহিদুল ইসলাম ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম পলাতক রয়েছেন।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুল কবির বলেন, নিহত গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ভাই সজীব বাদি হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।