রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো: মাসুদ আলম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বুধবার গভীর রাতে অপারেশন থিয়েটার থেকে বাইর করার কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান। মো: মাসুদ আলম ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সজিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

মাসুদ আলম গত ২৮ নভেম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষে মারাত্মক আহত হন। এ সময় একই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সজিব মারা যান।

যুবলীগ নেতা মো: মাসুদ ছাত্রলীগ নেতা সজিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও রামগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক হয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে ছিলেন বলে জানান রামগঞ্জ থানা পুলিশ।

মো: মাসুদ রামগঞ্জ উপজেলার নয়নপুর আজগর আলী ব্যাপারী বাড়ির নুরুল হকের ছেলে ও তিন সন্তানের জনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের ২৮ নভেম্বর ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমির হোসেন খাঁন দলের বাইরে গিয়ে (পরে বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় ভোট কেন্দ্র দখল ও পূর্ব শত্রুতার জেরে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী শাহানাজ আক্তারের সমর্থক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সজিবের সাথে তর্কবির্তক হয়। কিছুক্ষণ পরে কেন্দ্রের বাইরের মসজিদের পাশে ছাত্রলীগ নেতা সজিব ও যুবলীগ নেতা মাসুদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে উভয় মারাত্মক আহত হয় দুজন। একপর্যায়ে মাসুদ আলম বাঁশ দিয়ে সজীবের মাথাও ঘাঁড়ে প্রচণ্ড আঘাত করে। স্থানীয় লোকজন মাসুদ আলমকে পাশ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ছাত্রলীগ নেতা সজিবকে ঢাকায় নেয়ার পথে চাঁদপুর নামক স্থানে সজিবের মৃত্যু হয়।

ঘটনার দুই দিন পর ৩০ নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদুর রহমান সজিবের বোন সোনিয়া আক্তার মো: মাসুদ আলমকে প্রধান আসামি করে আরো ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

ওই দিনই রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ মাসুদ আলমকে আটক করে লক্ষ্মীপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাসুদ আলমের স্ত্রী আকলিমা আক্তারের ছোট ভাই মো: রাজন জানান, আমার বোনের স্বামী মারা যাওয়ার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রামে নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সনদ দরকার হয়। কিন্তু আমার ছোট ভাই সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সনদ আনতে গিয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত চেয়ারম্যান সনদ পায়নি। চেয়ারম্যানকে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান আমি ঢাকায় অফিসের অন্য কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে বিধিমতে ব্যবস্থা নিতে।

মৃত মাসুদ আলমের স্ত্রী আকলিমা আক্তার জানান, যে মারা গেছে সে তো গেছেই। আপনার ফোন দিয়েছেন কেন, আরো কয়েকটা মামলা দিতে? আমার স্বামীর মাথা আঘাত করলেও কেউ রক্ষা করতে আসেনি। পিটিয়ে আমার স্বামীর মাথার খুলি পাটিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।

লক্ষ্মীপুর কারাগারের জেলার শাখাওয়াত হোসেন জানান, আমরা ৩০ তারিখে মো: মাসুদ আলমকে পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঠাই। কুমিল্লা সদর হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন জানান, মামলা হওয়ার পর আমরা মাসুদ আলমকে আটক করে লক্ষ্মীপুর আদালতে পাঠাই। বৃহস্পতিবার সকালে আমরা জানতে পারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে মাসুদ আলমের মৃত্যু হয়েছে। আটককৃত মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সজিব হত্যাসহ ৪টি মামলা রয়েছে।