পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির নের্তৃবৃন্দের অভিষেক অনুষ্ঠানে অভিনন্দন জানাতে আসা নেতা-কর্মীদের পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও বাঁধা সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলার শিকার হয়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ৪টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরাসহ নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম জানান, তারা নবগঠিত উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগ নের্তৃবৃন্দকে খুলনা থেকে পাইকগাছায় অভিষেক অনুষ্ঠানে রিসিভ করে আনার জন্য উপজেলার প্রবেশদ্বার কাশিমনগর যাচ্ছিলেন। এ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পথিমধ্যে পৌরসভার জিরোপয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা সংঘবদ্ধ হয়ে জিরোপয়েন্ট এলাকায় তাদের পথরোধ করে অতর্কিত মারপিট শুরু করে। এতে ছাত্রলীগ নেতা নূর আলম, শাহিন আলম, পারভেজ, জয় ও সানি আহত হন। এ সময় তাদের ব্যবহৃত ৪টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয় বলেও জানানো হয়।

আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে সকলের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হলেও আহত শাহিন আলমের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়।

এদিকে খুলনা থেকে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দরা পাইকগাছায় প্রবেশ করার খবরে পদবঞ্চিতরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের অনুসারীদের সম্পৃক্ত করে প্রবেশদ্বার কাশিমনগর থেকে শুরু করে উপজেলা সদর পর্যন্ত থেকে থেকে অবস্থান নেয়। এ সময় তাদেরকে রিসিপশনে আসা নেতা-কর্মীদেরেকেও বাঁধা দেয়া হয়। তবে বিষয়টি থানা পুলিশ খবর পেয়ে নের্তৃবৃন্দকে বহনকারী দু’টি প্রাইভেট কার পুলিশ প্রহরায় উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়। এরপর তাদেরকে দলীয় কার্যালয়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন উপজেলা আওয়ামী লীদের সহ-সভাপতি সমীরণ কুমার সাধু, সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপুসহ দলীয় নের্তৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে থানা উপ-পুলিশ পরিদর্শক অভিজিৎ জানান, পদবঞ্চিতদের একটি দল এ সময় মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে এগুতে থাকলে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় তাদেরকে থামিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে মারপিটকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পাইকগাছা উপজেলা শাখার মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে গত ৯ ডিসেম্বর জেলা ছাত্রলীগ সম্মেলন না করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট পাইকগাছা উপজেলা ও ১৬ সদস্য বিশিষ্ট পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করায় অনতিবিলম্বে নতুন কমিটি গুলোকে বিলুপ্ত করার দাবিতে ১০ ডিসেম্বর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটির ৩ জন নেতা পদত্যাগও করেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে পাইকগাছা উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবীদ শেখ হারুন অর রশীদের বাসায় গিয়ে ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিক পরামর্শ ও অভিনন্দন জানান।

অন্যদিকে নবগঠিত ছাত্রীলীগ নের্তৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডল বলেন, দীর্ঘ দিন পর এমন সুন্দর কমিটি উপহার দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শেখ রাশেদুজ্জামান রাসেল জানান, সদ্য ঘোষিত কমিটির ছাত্রলীগ নেতারা তাদের যোগ্যতার পুরস্কার পেয়েছেন। তার জানামতে কমিটির সদস্যরা আওয়ামী পরিবারের সন্তান।

জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা: শেখ শহীদ উল্লাহ নবগঠিত ছাত্রলীগের কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের ফেইসবুক আইডিতে ছবিসহ পোস্ট করেছেন।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খায়রুল আলম জানান, আমি নিজেও ছাত্রলীগ থেকে উঠে এসেছি। পাইকগাছা উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি দেখে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জেনেছি খুব ভালো একটা ছাত্রলীগের কমিটি উপহার দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। আমি নব গঠিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানাই।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত ও বিএনপি পরিবারের কোনো ছেলে কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় সকল ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু নবাগতদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বহু বছর পর পাইকগাছা উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের নিখুঁত কমিটি উপহার দিয়েছেন খুলনা জেলা ছাত্রলীগ। তার বিশ্বাস, তাদের হাত ধরে ছাত্রলীগ আরো গতিশীল হবে। এছাড়া তার জানা মতে সকল সদস্য আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান বলেও জানান তিনি।