দীর্ঘ দেড় বছর পর অবশেষে অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে অষ্টদশী মনিরা খাতুনের পেটের সার্জিক্যাল কাঁচি। আজ শনিবার ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ (বিএসএমএমসি) হাসপাতালে তার এই দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তাকে নিবীড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বিএসএমএমসি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা: রতন কুমার সাহার নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল মনিরার পেটের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে মনিরাকে হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে প্রবেশ করানো হয়। বিকেলের একটু আগে তাকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

অস্ত্রোপচার দলের প্রধান ডা: রতন কুমার সাহা জানান, দীর্ঘ তিন ঘণ্টা যাবত মনিরার অস্ত্রোপচার করা হয়। তার পেটের কাঁচি বের করা হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন সেটি পেটের মধ্যে থাকায় নাড়ির সাথে পেঁচিয়ে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে আমরা নাড়ির একটি অংশ কেটে ফেলি।

বর্তমানে মনিরাকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রেখে ৭২ ঘণ্টার নিবীড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ডা: রতন কুমার সাহা বলেন, পর্যবেক্ষণ সময় পেরোনোর আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা ওই পরিবারকে সবধরনের সহযোগিতা করেছি। এখনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত আছি।

পেটের মধ্যে কাঁচি রেখে অস্ত্রেপচারের পর সেলাই করার ঘটনাটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ইচ্ছাকৃত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, আজ শনিবার পর্যন্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা: ছিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ মার্চ এই হাসপাতালে মনিরার অপারেশন করার ঘটনায় গাইনী বিভাগের সহকারী রেজিস্টার-২ এর দুজন চিকিৎসক অংশ নেন। এখন বিষয়টি নিয়ে কি করা যায় সে ব্যাপারেই জোর চিন্তাভাবনা চলছে।

ভুক্তভোগী মনিরা খাতুন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে এক্সরে করার পর তার পেটে একটি কাঁচি দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়।