স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শহীদ নুর মোহাম্মদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। নুর মোহাম্মদের স্ত্রী বয়োবৃদ্ধা ফয়জুন নেছা বেগম জীবিত থাকতে তার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেখে যেতে চান। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদ নুর মোহাম্মদ নোয়াখালী জেলার চাটখিলের ৯ নম্বর খিলপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শংকরপুর গ্রামের আখন বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শহীদ জি এম রুহুল আমিনের বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন। শহীদ জি এম রুহুল আমিনের সাথে ৭১ সালের ২৪ আগস্ট একই সময় শহীদ হন। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শহীদ পরিবার হিসেবে নুর মোহাম্মদের স্ত্রী ফয়জুন নেছা বেগমকে ২ হাজার টাকা আর্থিক সহয়তা দিয়েছিলেন। জি এম রুহুল আমিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ মর্যাদা এবং সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পেলেও নূর মোহাম্মদ রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা তো দূরে কথা তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের মর্যাদাটাও পাননি।
শহীদ নূর মোহাম্মদের স্ত্রী বর্তমানে বয়োবৃদ্ধা, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং মেয়ে জাহানারা বেগম স্বামীর সংসার করছেন। জরাজীর্ণ বসত বাড়িতে তারা বসবাস করছেন। কেউ তাদের খোঁজ-খবর রাখেন না।
শহীদ নুর মোহাম্মদের স্ত্রী ফয়জুন নেছা বেগম জানান, তার স্বামী শহীদ হওয়ার পর তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে ছোট ছিল, আর্থিক সঙ্কটে তাদেরকে লেখাপড়া করাতে পারেননি। অনেক কষ্টে তিনি সংসার চালিয়েছেন। ২ ছেলে সাংসারিক খরচ বহনের জন্য ছোটকাল থেকেই রিকশা চালিয়ে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের বসত বাড়ি করে দিচ্ছেন। প্রতি মাসে ভাতা দিচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে আসছেন। কিন্তু তিনি সুযোগ-সুবিধা তো দূরে থাকুক তার স্বামীর শহীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদাও পাননি।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জানান, জি এম রুহুল আমিনের সাথে নুর মোহাম্মদও শহীদ হয়েছেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কয়েকবার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হলেও শহীদ নুর মোহাম্মদের পরিবার অথবা অন্য কেউ এ ব্যাপারে আবেদন না করায় নুর মোহাম্মদ রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদি মর্যাদা পাননি।
শহীদ নুর মোহাম্মদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন জানান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনের বিষয়টি তারা জানেন না এবং তাদেরকে কেউ বিষয়টি বলেননি।
ব্যাপারে যুদ্ধকালীন সময়ের বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুর রহমান বেলায়েত সাথে যোগাযোগ করলে তিনি শহীদ জি এম রুহুল আমিনের সাথে নুর মোহাম্মদও শহীদ হয়েছেন স্বীকার করে বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কেন এবং কী কারণে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি তা তিনি জানেন না। বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে জোর দাবিও জানান তিনি।



