ভৈরবে একটি খুনের মামলার (মামলা নং ৮৫৫(২) ২০১৭) প্রধান আসামি বর্তমান সাদেকপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ (৪৮)। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন কিশোরগঞ্জের আদালত। এছাড়া তার নামে আরো একটি খুনের মামলা আছে।
জানা গেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এবারো তিনি নৌকা মার্কা পেয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। গত ২৫ নভেম্বর তিনি চেয়ারম্যান পদে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভৈরবে ইউপি নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর এলাকায় প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পুলিশ বলছে, তার গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় আসেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপি গ্রামের মৃত আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো: সাফায়েত উল্লাহ'র বিরুদ্ধে দুটি খুনের মামলা রয়েছে। তার মধ্যে সাদেকপুর ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মানিক হত্যা মামলায় সাফায়েত উল্লাহ এক নাম্বার আসামি। ওই মামলায় গত ২৯ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্যাট আদালতের বিচারক।
নিহত মানিক ভূইঁয়ার ছেলে ও মামলার বাদি মো: সুজন মিয়া জানান, আমার বাবাকে আসামিরা খুন করেছে। মামলার প্রধান আসামি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ। একজন খুনের প্রধান আসামিকে কেমন করে নৌকা মার্কা দেয়া হলো তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। এখন আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: ফজলুল হক জানান, নিহত মানিক আমার চাচাত ভাই। তার খুনের মামলায় সাফায়েত প্রধান আসামি। অথচ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড তাকে কী করে নৌকা মার্কা দিল। আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলাম। ডেলিগেট ভোটে আমি প্রথম হয়েছি কিন্তু নৌকা মার্কা দিল ডাবল খুনের আসামিকে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার প্রলয় কুমার সাহা জানান, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে নির্বাচনে প্রার্থীতায় কোনো বাধা নেই। জেলে থেকেও অনেকে নির্বাচন করে। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।
চেয়ারম্যান প্রার্থী সাফায়েত উল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, দুটি খুনের মামলায় আমাকে মিথ্যা আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় আমি জামিনে আছি। অপর একটি মামলায় আমি নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় হাজিরা দিতে পারিনি। এ কারণে ওয়ারেন্ট হয়েছে। নির্বাচনের পর আমি আদালতে গিয়ে হাজিরা দিয়ে জামিন নিব।
ভৈরব থানার ওসি মো: গোলাম মোস্তফা নয়া দিগন্তকে জানান, সাফায়েত উল্লাহ'র গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি আমি অবগত নয়। তিনি বলেন, আমি থানায় যোগদান করেছি মাত্র সপ্তাহ হলো। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিব। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছতে কিছু প্রক্রিয়া আছে, এতে কয়েক দিন সময় লাগে। থানায় যদি পরোয়ানা এসে থাকে তবে আইনগতভাবে আমি ব্যবস্থা নেব বলে তিনি জানান।



