ফেনীর সোনাগাজীর ৭ নম্বর সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামছুল আরেফিন।

শুক্রবার রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এই আশঙ্কা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যদি জানতাম সোনাগাজীতে টাকার কাছে নৌকা বিক্রি হবে, তবে দলের পেছনে নয়, টাকার পেছনে দৌড়াতাম।’

শামছুল আরেফিন বলেন, ‘যদি কেন্দ্র দখল করে নৌকাকে জয়ী করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোনো উপায় থাকবে না।’

বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করা স্থানীয় এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে শুনতে পেয়েছি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগের মতো বহিরাগতদের দিয়ে কেন্দ্র দখলের পর নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করা হবে। এমন ঘটনা ঘটানো হলে প্রতিবাদ জানাব। সুষ্ঠু নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোক, কোনো আপত্তি নেই।’

তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান করতে পারি, জেলার যেসব ইউনিয়নে ইতোমধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছে, তাদের বৈধ অস্ত্রগুলো সোনাগাজীতে কেন্দ্র দখলের জন্য ব্যবহার করা হবে।

তাদের বৈধ অস্ত্র ও সোনাগাজীতে সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র জব্দ ও উদ্ধার করে নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শামছুল আরেফিন ফেনীর পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কেন্দ্র দখল করে নৌকাকে জয়ী করার চেষ্টা করা হয়ে, আমি আত্মহত্যা করে সারা দেশ এবং প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে যাব আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে।’

দুইবারের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে কোনো অনিয়মে জড়াননি বলে দাবি করেন শামছুল আরেফিন।

শামছুল আরেফিন অভিযোগ করে বলেন, ‘দল যাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছে, সে যদি এক দিনের জন্য সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত, তাহলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতাম।’

৭ নম্বর সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদে ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উম্মে রুমা।

সোনাগাজীর ওই ইউনিয়নের নির্বাচনে লড়ছেন মোট পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। অন্যরা হলেন জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের ফখরুদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মমিন খান। সরেজমিন ভোটার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ নির্বাচনে নৌকা ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘোড়া মার্কার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।