কালজয়ী উপন্যাস “বিষাদ সিন্ধু”র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (১৯ ডিসেম্বর)।
ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা মুসলিম সাহিত্যিক “বিষাদ সিন্ধুর” অমর লেখক মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলা শহরের তিন মাইল পূর্বে গড়াই ব্রিজের নিকটস্থ লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মীর মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মাতার নাম দৌলতন নেছা। তিনি ১৯১১ সালের ১৯ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। পদমদীতে তাকে সমাহিত করা হয়। তার স্মৃতি রক্ষার্থে পদমদীতে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তবে সেই স্মৃতি কেন্দ্র যার জন্য আজ আলোকিত তাকে শুধু দিবসেই মনে রেখেছে সবাই।
মীর মশাররফ হোসেন লিখিত গ্রন্থ সমূহ: রতœবতী (উপন্যাস) ১৮৭৩, বসন্তকুমারী (নাটক) ১৮৭৩, জমিদার দর্পণ (নাটক) ১৮৬৯, গড়াই ব্রীজ বা গৌড়ী সেতু (কবিতাগ্রন্থ) ১৮৭৩, বিষাদ-সিন্ধু (ঐতিহাসিক উপন্যাস) ১৮৮৫-৯১, সঙ্গীত লহরী ১৮৮৭, গো-জীবন (প্রবন্ধ) ১৮৮৯, উদাসিন পথিকের মনের কথা (জীবনী) ১৮৯৯, গাজী মিয়ার বস্তানী (রম্যরচনা) ১৮৯৯, মৌলদ শরীফ (পদ্যে পদ্যে লিখিত ধর্মীয় গ্রন্থ) ১৯০০, মুসলমানের বাঙ্গাল শিক্ষা (ছাত্রপাঠ্য ১ম ভাগ) ১৯০৩ এবং (দ্বিতীয় ভাগ) ১৯০৮, বিবি খোদেজার বিবাহ (কাব্য) ১৯০৫, হযরত ওমরের ধর্ম জীবন লাভ (কাব্য) ১৯০৫, হযরত বেলালের জীবনী (প্রবন্ধ) ১৯০৫, হযরত আমীর হামজার ধর্ম জীবন লাভ (কাব্য) ১৯০৫, মদিনার গৌরব (কাব্য) ১৯০৫, মদিনার গৌরব (কাব্য) ১৯০৬, মোশ্লেম বীরত্ব (কাব্য) ১৯০৭, এসলামের জয় (প্রবন্ধ গ্রন্থ) ১৯০৮, আমার জীবনী (আত্মজীবনী) ১৯০৮-১০, বাজীমাত (কাব্য) ১৯০৮, হযরত ইউসোফ (প্রবন্ধ গ্রন্থ) ১৯০৮, খোতবা বা ঈদুল ফিতর (কাব্য) ১৯০৮ ও বিবি কুলসুম (জীবনী) ১৯১০।
মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা বাংলা একাডেমির প্রোগ্রাম অফিসার শেখ ফয়সাল আমিন বলেন, আধুনিক বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রথম মুসলিম রূপকার, বিষাদসিন্ধুর রচয়িতা ও জমিদার দর্পণখ্যাত মীর মশাররফ হোসেনের ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ ডিসেম্বর। দিবসটি উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, উপজেলা প্রশাসন, মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদ, মীর মশাররফ হোসেন কলেজসহ স্থানীয় বিভিন্ন সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন পদমদীতে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচির আয়োজন করেছে।