ঋতুর পরিবর্তনের চক্রে ফিরেছে শীত। শীতের আগমনে এসেছে নতুন সব পরিবর্তন। পরিবর্তন এসেছে জীবনযাত্রায়, পরিবর্তন এসেছে পোশাকে। তেমনি পরিবর্তন এসেছে কৃষিতে।

পরিবর্তনের ধারায় চাষ হচ্ছে বিভিন্ন মওসুমি সবজি। ‘শীতকালীন সবজি’ হিসেবে পরিচিত ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, টমেটো, বেগুন, শিমসহ বিভিন্ন সবজির চাষ হচ্ছে জেলায় জেলায়।

শীতকালীন সবজির মধ্যে জনপ্রিয় এক সবজি শিম। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিপুলভাবে চাষ হচ্ছে এই সবজি। সোনারগাঁওয়ের সবজি গ্রাম হিসেবে পরিচিত সনমান্দিতে বিলে ও রাস্তার দুই পাশে দেখা মিলছে বিস্তীর্ণ শিমের মাচা। এছাড়া বসতবাড়ির দেয়ালের পাশে, ঘরের চালে ও ক্ষেতের আইলেও চাষ হচ্ছে সবজিটি।

শুধু নিজেদের চাহিদার জন্যই নয়, বাণিজ্যিকভাবেও চাষ হচ্ছে শিম। কৃষকরা জানান, যে কোনো ফসল আগাম চাষ হলে বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। মুনাফাও বেশি হয়। এ বছর উঁচু জমিতে সবজি চাষে ঝুঁকছেন তারা। কম সময়ে কম খরচে বেশি মুনাফার জন্য শিমের জুড়ি নেই।

সোনারগাঁওয়ে সনমান্দি ইউনিয়নের বাটিরচর গ্রামের মুকুল হাসান শিক্ষকতার পাশাপাশি বসতবাড়ির আঙিনায় এবং বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমি নিয়ে সারাবছর বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করছেন। বারদীর আলগীরচর এলাকার যুবক হুমায়ন কবীরও তার বাড়ির পাশে জমিতে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি শিম চাষও করেন। ক্ষেত থেকে সরাসরি ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের পাইকাররা শিমসহ অন্যান্য সবজি কিনে নিয়ে যান।

মুকুল হাসান ও হুমায়ন কবির জানান, শিম আগাম চাষ করতে পারলে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। এমনকি কীটনাশক ব্যবহার না করেই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করা সম্ভব।

শিম শুধু রসনাবিলাসই করে না, তার অন্য গুণও আছে। মদনপুরের মা জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার রাজদত্ত জানান, পুষ্টিগুণে ভরপুর সুস্বাদু সবজি শিম। শিমে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেলে সমৃদ্ধ। যারা সরাসরি প্রোটিন খান না অর্থাৎ মাছ, মাংস খাওয়া হয় না, তাদের জন্য শিমের বিচি শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারে। যাদের আমিষ খাওয়ায় সীমাবদ্ধতা আছে, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই সবজি খাবেন। আর শীতে নিয়মিত শিম খেলে ত্বকও ভালো থাকবে।

সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার জানান, সোনারগাঁওয়ে সনমান্দি ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে বিভিন্ন সবজির চাষ হয় ব্যাপকভাবে। এর মধ্যে অন্যতম শিম। ঢাকা থেকে সোনারগাঁও কাছাকাছি হওয়ার কারনে সবজি রপ্তানিকারকরা সহজে সবজি সংগ্রহ করতে পারেন। তাছাড়া সোনারগাঁওয়ের সবজি পোকা মুক্ত হওয়ায় খুবই প্রশংসনীয়। সবজি পোকামাকড় মুক্ত করার বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি অফিস ব্যাপক কাজ করছে। ফলে দিন দিন সোনারগাঁওয়ের শিম সহ অন্যান্য সবজি বিদেশে রপ্তানিতে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।