কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে গুলিবর্ষণ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

বটতৈল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিন্টু ফকিরের অফিসে নৌকার প্রার্থী মোমিন মন্ডল এবং তার সমর্থকরা এ গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মিন্টু ফকিরসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে মিন্টুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মিন্টুর মাথা ও পেটে আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এদিকে মিন্টুর সমর্থকেরা কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়কে বেরিকেড দিলে পুলিশ বাঁধায় মানুষ রাস্তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মাতয়েন রয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ওই ইউনিয়নের খাজানগর বায়তুস সালাম মসজিদের সন্নিকটে হাতি প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান মিন্টুর নির্বাচনী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে মিন্টু ফকিরে সমর্থকরা কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। এ সময় পুলিশকে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে হয়। পরে এলাকাবাসী সড়কের অবরোধ তুলে নিলে ওই সড়কের যানবাহন যাতায়াত স্বাভাবিক হয়।

kushtia-clash-pic-(1)

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েক শ’ সমর্থককে নিয়ে সকালে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা মিন্টু ফকির মোটরসাইকেলযোগে নির্বাচনে প্রচারণায় যান। তিনি দোস্তপাড়া বাজারে পৌঁছলে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোমিন মন্ডলের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে প্রার্থী মিন্টু ফকিরসহ কয়েকজন আহত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মিন্টু ফকিরের সমর্থকদের সাথে মোমিন মন্ডলের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে মিন্টু ফকিরের সমর্থকদের তাড়া খেয়ে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোমিন মন্ডলের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

মিন্টু ফকিরের সর্মথকরা অভিযোগ করেন সংঘর্ষের সময় মোমিন মন্ডলের সমর্থকরা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। চেয়ারম্যান প্রার্থী মিন্টু ফকিরের কয়েক শ’ সমর্থক লাঠি নিয়ে কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে বসে তারা হামলার প্রতিবাদ করতে থাকে। এ সময় তাদের হাতে লাঠি ছিল। এতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম খাজানগর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া চাল বোঝাই ট্রাকসহ আটকা পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়ক বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়।

বটতৈল ইউনিয়নের নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আহত মিজানুর রহমান ওরফে মিন্টু ফকির জানান, নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে মোমিম মন্ডল পরিকল্পিত ভাবে হামলা করেছে। তিনি সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় বের হলে মোমিন মন্ডলের ভাই-ভাইপো সমর্থকরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিসহ তার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন জন সমর্থক আহত হয়েছেন। মটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। তিনি হামলার বিচার দাবি করেন। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মোমিন মন্ডল জানান, আমি ঘটনার সময় উপজেলায় ছিলাম নির্বাচনের বিষয়ে আলাপ করতে। দোস্তপাড়া মোড়ে আমার অফিসের সামনে মিন্টু লোকজন এসে আজেবাজে কথা বলে ও নির্বাচনী অফিসে হামলা করে। এ সময় আমার লোকজন তাদের প্রতিহত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে কুষ্টিয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। সড়ক স্বাভাবিক হয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে সোমবার রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা। এতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান আলী তার দুই ভাই ও কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে।

হাসান আলীর অভিযোগ, নৌকার প্রার্থী আরব আলী ও যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজুর নেতৃত্বে হামলা করে ৩০ থেকে ৪০ জন। এতে তিনিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে হামলার অভিযোড় অস্বীকার করে আরব আলী। বটতৈল ও আব্দালপুর ইউনিয়নে আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।