সিনেমার গল্পের মতোই যেনো বেঁচে ফিরলেন বরগুনার বেতাগী মেডিক্যাল পড়ুয়া শিক্ষার্থী কুশল কর্মকার। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে বেঁচে ফিরেছেন, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি।
ঢাকা গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কুশল কর্মকার। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী লঞ্চ ‘অভিযান-১০’- এ বেতাগীতে বাড়ি রওনা হন তিনি।
কুশল জানান, রাতে লঞ্চে আগুন লেগে যখন সবকিছুই পুড়ছিলো, জীবন বাঁচাতে তখন ঝুঁকি নিয়ে কনকনে শীতের মধ্যে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। সাঁতারের সুবিধার জন্য পরনের সব পোশাক খুলে ফেলেন তিনি।
কুশল বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা নদীতে সাঁতার কাটার পর তেলবাহী এক জাহাজ দেখতে পান তিনি। ঠাণ্ডার কারণে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না তিনি। পরে জাহাজের পাশে গিয়ে হাত দিয়ে ইশারা করেন তিনি। কুশলের ইশারা বুঝে তাকে জাহাজে তোলেন ওই জাহাজের কর্মীরা। জাহাজের লোকজন তাকে গরম পোশাক দেন এবং প্রয়োজনীয় শুশ্রুষা করেন।
শুক্রবার সকালে ফোনে কুশল তার বাবা কৃষ্ণ কর্মকারকে দুর্ঘটনার কথা জানান। দুর্ঘটনার কথা জেনে কৃষ্ণ কর্মকার তাকে ঝালকাঠী থেকে বেতাগীর পৌর শহরের বাসায় নিয়ে আসেন।
কৃষ্ণ কর্মকার দুর্ঘটনা থেকে তার ছেলের বেঁচে যাওয়ায় ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছেন ঈশ্বর। ঈশ্বর বাঁচালে কেউ তাকে মারতে পারে না।’
কুশল বলেন, ‘আমি যে এই শীতে বেঁচে থাকবো, তা কখনো ভাবিনি। ঈশ্বর আমাকে বাঁচিয়েছেন।’






