বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন শেষ হয়েছে। রোববার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের একটি ভোট কেন্দ্রে ব্যালট কেড়ে নৌকার সিল মারার ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করে তার মুঠোফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। অন্য একটি ভোট কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে গিয়ে মেয়েসহ এক আওয়ামী লীগ নেতা আটক হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বেলা ২টার দিকে রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ধনতলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যায় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদকর্মী। ওই সময় তারা কেন্দ্রে কয়েকজন ব্যক্তিকে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সিল মারতে দেখেন। ছবি তুলতে গেলে ওসমান গনির নেতৃত্বে তারা সাংবাদিকদের মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। ওই সময় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের লাঠিপেটা করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

ব্যালটে সিল মারার সময় নৌকার কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন দৈনিক মতপ্রকাশের স্থানীয় প্রতিনিধি হাসিনুর রহমান। ওই সময় তিনি বলেন, হামলাকারীরা এ কেন্দ্রে কোনো সাংবাদিক থাকবে না বলতে বলতে আমাদের মারধর করতে থাকে। এমন সময় পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করেন।

এদিকে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আখানগর ইউনিয়নে ঝাঁড়গাঁও রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে নৌকার কয়েকজন কর্মী কেন্দ্রে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন এবং প্রকাশ্যে সিল মারতে থাকেন। ওই সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তারা পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাদের সাথে আরো কয়েকজন যোগ দিয়ে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫টি ফাঁকা রাবার বুলেট বর্ষণ করে। এ ব্যালট পেপার ছিনাতাইয়ের সাথে জড়িত ছিলেন আখানগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাবুল হোসেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সমর্থকেরা প্রতিরোধ করতে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমন অবস্থায় ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: রাকিবুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাথে কথা বলে আবার ভোটগ্রহণ শুরু করেন।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, হঠাৎ কিছু দুষ্কৃতকারী কেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল-জরিমানা দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মো: রাকিবুজ্জামান ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে কাবুল হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তার মেয়ে কামরুন নাহারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ২০৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৬৭৮ জন প্রার্থী প্রার্থী ছিলেন।