উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোট কারচুপির অভিযোগ ও চারজন প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া, কুতুবপুর, পদ্মবিলা ও মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে চারটি ইউনিয়ন পরিষদের তিনটিতেই নৌকা জয়লাভ করেছে। কুতুবপুর ইউনিয়নে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করাই একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ ইউনিয়নে ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসানুজ্জামান মানিক। তিনি আবারো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত।
আলুকদিয়া, কুতুবপুর ও মোমিনপুর ইউপিতে ব্যালট পেপারে এবং পদ্মবিলা ইউপিতে ইভিএম-এর মাধ্যমে গতকাল রোববার সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ, বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর ভোট গণনা শেষে রাতেই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সদর উপজেলার এই চার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২০ জন প্রার্থী, সাধারণ সদস্য পদে চার ইউনিয়নে ১৫৪ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে ৪৫টি কেন্দ্রে, ২৪২টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে আলুকদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন আট হাজার ২১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তাউর রহমান মুকুল পেয়েছেন চার হাজার ৩০৯ ভোট। পদ্মবিলা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ আলম চার হাজার ৫১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিম মল্লিক পেয়েছেন তিন হাজার ৯২০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রতীকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন পাঁচজন প্রার্থী।

সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন রতন পাঁচ হাজার ৭৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম ফারুক জোয়ার্দার পেয়েছেন চার হাজার ৭৮ ভোট। কুতুবপুর ইউনিয়নে ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিক। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী জুয়েল রানা পেয়েছেন তিন হাজার ৯১৪ ভোট। এ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই এই ইউনিয়নের বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগে আগে থেকেই উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার জন্য রোববার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রে যান চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদুল ইসলাম। এসময় ডিসি-এসপি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগকারী সাধারণ ভোটার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ডিসি-এসপি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।