পাশাপাশি মাটির চুলায় জ্বলছে আগুন। কোনো চুলায় ভাপাপিঠা, কোনোটিতে চিতই, কোনোটিতে ডিম, বা অন্য কোনো পিঠা। আর ধোয়া উঠা এই গরম পিঠার স্বাদ নিতে অপেক্ষা করছেন পিঠাপ্রেমীরা। শীত যতই বাড়ছে ততই শিবচরে এসব পিঠাণ্ডপুলির দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ স্থানে বসেছে অস্থায়ী পিঠা বিক্রির দোকান। অল্প পুঁজি আর কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় পিঠা ব্যবসায় নেমেছেন অনেকেই। দোকানগুলোয় পিঠার পাশাপাশি থাকছে হরেক রকম ভর্তা। প্রতিদিন বিকেল থেকেই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে মোড়ের দোকানগুলোয়। সন্ধ্যা হলেই বেড়ে যায় ক্রেতা সমাগম, যা গভীর রাত পর্যন্ত থাকে। রসুন-মরিচবাটা, ধনিয়াপাতা বাটা, শুঁটকি, কালোজিরা, সর্ষে ভর্তাসহ নানা রকম উপকরণ মিলিয়ে বিক্রি করা হয় চিতই পিঠা। সন্ধ্যায় হিমেল হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে পিঠা খেতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানগুলোতে।

শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর এলাকার পিঠা বিক্রেতা নজরুল ইসলাম জানান, চিতই, কুলি, ভাপা, ডিমচিতই, তেলের পিঠা ও পাটিসাপটা পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রি করেন তারা। এর মধ্যে ভাপা আর চিতই পিঠার কদর বেশি। বেচা হয় পাঁচ টাকা করে।

সহকর্মীদের নিয়ে পিঠা খেতে আসা ইমরান বলেন, শীতের সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ও ধনে পাতা ভর্তার স্বাদের তুলনা নেই।

পিঠা খেতে আসা রকিবুল বলেন, কাজ শেষ করে বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খেতে এসেছি। বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে পিঠা খেতে মজা লাগে।

পিঠা বিক্রেতার বলছেন, বছরের এই সময়টা শীতকালীন পিঠার বেচা-বিক্রি বেশি হয়। তাই তো এই সময়ে দোকানিরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারেন। বর্তমানে চিতই, ভাপা, বরাপিঠা, পাটিসাপটা সহ পাঁচ থেকে সাত ধরনের পিঠা তৈরি করছেন তারা। আর চিতই ও ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য থাকছে নারকেল গুর-সহ বাহারি পদের ভর্তা।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, পিঠা তৈরি করার সময় ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে পিঠা তৈরির কাজ করতে হবে এবং মুখে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। এবং বিক্রির ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।