সিলেটের গোলাপগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতায় গুলিতে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এর আগে ভোটকেন্দ্রে জালভোট প্রদান, সাংবাদিকদের মারধর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তায় থাকার পরও জালভোট ও সহিংসতায় শ্রমিক নিহত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

রোববার উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারীভাবে পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ৬টির মধ্যে ২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ১টিতে জাতীয় পার্টি (স্বতন্ত্র), ২টিতে জামায়াত (স্বতন্ত্র) ও ১টিতে বিএনপি (স্বতন্ত্র) প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ারশেলসহ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের লোকেরা পাল্টা গুলি চালায়।

রাতের অন্ধকারে গুলিবর্ষণে স্থানীয়রা দিকবিদিক পালিয়ে যান। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে দীর্ঘ যানবাহনের লাইন দেখা যায়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও আগত রোগীরা। এ সময় গুলিতে আব্দুস সালাম নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুস সালামের বাড়ি একই উপজেলার লক্ষিপাশা ইউপির রামপা গ্রামে। তিনি রিকশার গ্যারেজের মেকানিক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নে ভোট গণনা শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্রের ফলাফলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের লোকজন ফুলবাড়ি বৈটিকর বাজারে এসে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে সড়কে থেকে তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ওই চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও গুলি নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষকালে ফুলবাড়ি বৈটিকর বাজারে রিকশার গ্যাজের মেকানিক আবদুস সালাম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সালামের বুক ও পেটে গুলির অসংখ্য চিহ্ন দেখা গেছে।

এদিকে, সংঘর্ষের সময় বৈটিকরের দু’পাশে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও আগত রোগীরা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ। সংঘর্ষের পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোমবার সকাল সাড়ে ১১ ঘটিকা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।

এদিকে নির্বাচন চলাকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে জালভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ভোটকেন্দ্রে মাছরাঙা টেলিভিশন ও এনটিভির সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনতাই হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।

লাঞ্চিত হওয়া সাংবাদিকরা জানান, ভাদেশ্বর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের সমর্থকরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাছরাঙা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন ও এনটিভির ক্যামেরাপার্সনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন জালভোট প্রদানকারীরা। এছাড়াও শারীরিকভাবে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন তারা। ঘটনার পরপর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় দুটি ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলিতে নিহত ও নির্বাচনে অনিয়মসহ সাংবাদিকবৃন্দের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ায় সচেতন মহল ও উপজেলা সচেতন নাগরিকগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতাকে দায়ী করছেন।