নিরাপদ নৌ-ভ্রমন নিশ্চিতকরণে সাত দফা দাবি নিয়ে বরগুনায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ কমিটি। সোমবার বেলা ১১টায় বরগুনা পৌর সুপার মার্কেটের সামনেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সকল যাত্রীবাহী যানবাহন কর্তৃপক্ষের কাছেই যাত্রীদের তথ্য থাকে। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীদের কোনো তথ্য নেই। এই কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক পরিমান নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না।

বক্তারা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসাথে যাত্রীদের পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান।

মানববন্ধন থেকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের প্রতি যে সাত দফা দাবি করা হয়, তা হলো, ১. দূর্ঘটনায় নিহতদের যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ২. আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, ৩. প্রত্যেক লঞ্চে জনপ্রতি লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে, ৪. আধুনিক অগ্নিনির্বাপক প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে হবে, ৫. প্রতি লঞ্চে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করতে হবে, ৬. অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করা যাবে না, ৭. প্রতি বছর লঞ্চের ফিটনেস চেক করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের দাবি করেন।

তারা বলেন, লঞ্চ মেরামতের পর অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ইঞ্জিন পরীক্ষা করাতে হবে। চালক ও স্টাফদের গাফলতির কারণে ঝালকাঠি ট্রাজেডিতে হতাহত বেশি হয়েছে।

বরগুনা জেলা যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন বক্তব্য রাখেন বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সঞ্জীব দাস, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাফিজ, বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইমরান হোসেন টিটু, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন ফসল, জাগো নারীর নির্বাহী পরিচলক ডিউক ইবনে আমিনসহ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ডিসেম্বর ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জন নিহত হন।