সিলেটের গোলাপগঞ্জে নির্বাচনী এলাকায় ফলাফলকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় পুলিশসহ বহু আহত ও গুলিতে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় ৩০ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা প্রায় ৪০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন এসআই মহরম আলী। আসামিদের ৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত রোববার (২৬ ডিসেম্বর) ইউপি নির্বাচনের পর রাতে পুলিশ ও চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে শ্রমিক নিহত ও পুলিশসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার রফিপুর দক্ষিণ মাইজভাগ গ্রামের মৃত তোয়ারিছ আলীর ছেলে ফলিক আহমদ (৩০), রণকেলী দীঘিরপাড় গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে মিরন আহমদ (২৮), ফুলবাড়ি টিকরপাপড়া গ্রামের শফিক আহমদের ছেলে কামরান আহমদ (২৫) ও একই গ্রামের মৃত মন্তর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৩৮)।

এদিকে ঘটনার পর থেকে উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে হাজারো মানুষজন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ দিন-রাত এলাকায় দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে। নিরীহ মানুষজনও পুলিশের গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে আত্মগোপন অবস্থায় রয়েছেন। অনেকেই আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রাত্রি যাপন করছেন। সচেতন মহলের দাবী প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা ও নিরীহ মানুষজনকে হয়রানি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর রোববার গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণশেষে ভোটগণনা শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে দুটি কেন্দ্রের ফলাফলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের লোকজন ফুলবাড়ি বৈটিকর বাজারে এসে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে সড়কে থেকে তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের সাথে ওই চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষ বাঁধে।

এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল, গুলি, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের লোকজন পাল্টা গুলি ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। ঘটনাস্থলে যুদ্ধের মাঠের মতো বিকট শব্দে ককটেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ চলে। রাতের অন্ধকারে গুলিবর্ষণে স্থানীয়রা দিকবিদিক পালিয়ে যান। এ সময় গুলিতে শ্রমিক আব্দুস সালাম নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের এসআই আশীষ চন্দ্র তালুকদার, এএসআই রতন মিয়াসহ একাধিক পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় প্রায় অর্ধ্বশতজন আহত হয়েছেন।

থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ৪ আসামি আটকের বিষয় ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।