সাঁতার না জেনেও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বেঁচে ফিরেছেন কলেজছাত্রী শাপলা। তবে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন মা জাহানারা জয়নব। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শাপলার খালা শারমিন আক্তার পান্না ও তার দুই সন্তান আবদুল্লাহ ও আছিয়া।
‘আগুনে পুড়ে মরার চেয়ে যদি মৃত্যু থাকে নদীতে ডুবে মরবো’- এমন চিন্তা থেকেই নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন সাহসী শাপলা।
মৃত্যুর কবল থেকে বেঁচে আসতে পারলেও শাপলা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। এসএসসি পাশ করে ঢাকার একটি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। মায়ের সাথে ঢাকায় থাকতেন শাপলা। সেই মাই আজ নিয়েছেন চিরবিদায়। এখন কার কাছে থেকে লেখাপড়া করবেন ! তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। এ শোক কাটিয়ে সবার সহযোগিতা নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান শাপলা।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা-বরগুনা রুটে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শাপলার পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী ওই লঞ্চটিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে।
শাপলার বাবা বরগুনা সদর উপজেলার নিমতলী গ্রামের বশির আহমেদ স্বপন জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকা থেকে চলে এসে বাড়িতেই থাকতেন। তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না। স্ত্রী জাহানারা জয়নবের আয়েই চলতো তার সংসার। তাদের মতো আরো অনেকের স্বজনই রয়েছেন নিখোঁজ।
শাপলা জানান, ঢাকা থেকে মা-বোন, বোনের ২ ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে বরগুনা ফিরছিলেন এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে করে। গ্রামের মেয়ে হয়েও সাঁতার না জানায় রাতে তার ঘুম আসছিল না। রাত ৩টার দিকে লঞ্চটিতে আগুন লাগে।
তিনি বলেন, ‘ওই সময়টিতে বাঁচার জন্য সবাই ছিল মরিয়া, কিন্তু আমি কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। পুড়ে মরার চেয়ে ডুবে মরবো, এই চিন্তা করে ঝাঁপ দেই নদীতে। কোনো এক অজানা পুরুষের গেঞ্জি ধরে সাঁতার শুরু করি। আমাকে নিয়ে বারবার ডুবে যাচ্ছিলেন ওই পুরুষ লোকটি। নিজে বাঁচার জন্য তিনি দু’বার হাত ছাড়িয়ে দিয়েছেন। তারপর তাকে অনেক কাকুতি করি আমাকে নিয়ে সাঁতার কাটতে। এক সময় অনেক কষ্টে কিনারে উঠতে সক্ষম হই।’
কিন্তু নদীর কিনারে এসেও প্রায় ডুবে যাচ্ছিলেন বলে জানান শাপলা।



