পটুয়াখালীতে দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রকাশ্য জনসভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। মঙ্গলবার শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্ক মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা করার সুযোগ দিচ্ছে না। খালেদা জিয়া সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী, তিনি স্বাধীনতা ঘোষকের স্ত্রী । অথচ আজ তিনি সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছেন না। । ওনাকে মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। এই স্বাধীন দেশে এ কলঙ্ক, এই লজ্জা কোথায় রাখবো?’
প্রধান বক্তার বক্তৃতায় মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা দেখে তাকে আটকে রেখে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতোই জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছে আওয়ামী লীগ সরকার। এতেও লাভ হবে না, এই আওয়ামী লীগ সরকারের এখন শেষ অবস্থা।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন অভিযোগ করে বলেন, পটুয়াখালীতে বিএনপির এই জনসভা বন্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগ অনেক চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের বিদায়ের ঘণ্টা ইতোমধ্যেই বেজে গিয়েছে।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুল হক নান্নু, সহ-সাংগঠনিক আকন কুদ্দুস, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হাসান মামুন, সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম তালুকদার, সাবেক এমপি শাহজাহান খান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না মিয়া প্রমুখ।
এর আগে বিএনপির জনসভা শুরুর আগে বেলা ১১টায় সমাবেশস্থলে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এই সময় ইটের আঘাতে দলীয় পাঁচ নেতাকর্মীর আহত হওয়ার কথা জানান বিএনপি নেতারা। হামলার জন্য স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগকে দায়ী করছেন তারা।
বিএনপি নেতারা বলছেন, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে তাদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ ছিল মঙ্গলবার দুপুর ২টায়। কিন্তু সকালে মাঠে মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ চলার সময় বেলা ১১টার দিকে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী অতর্কিতে মাঠে প্রবেশ করে এবং লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালায়। সেই সঙ্গে ইটপাটকেল নিক্ষেপও করতে থাকে।
তারা জানান, হামলার সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঞ্চের সামনে রাখা চেয়ার ভাঙচুর করে। এই সময় হামলায় শ্রমিক দলের নেতা আনিচুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। মারধর করা হয় সাদ্দামসহ আরো চার কর্মীকে।
বিএনপি নেতারা আরো অভিযোগ করেন, তাদের নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে পথে পথে বাধা দেয়া হয়েছে এবং মারধরও করা হয়েছে। শহরের প্রবেশ পথ লোহালিয়া খেয়াঘাট, লাউকাঠি খেয়াঘাট, পায়রাকুঞ্জ খেয়াঘাট ও ফেরিঘাট, পটুয়াখালী ব্রিজ, বাধঘাট, লঞ্চঘাটসহ সাতটি পয়েন্টে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা অবস্থান নেয় এবং খেয়া, লঞ্চ ও ফেরি চলাচল করতে বাধা দেয়। এর ফলে বিএনপির সভাস্থলে অর্ধেকেরও বেশি নেতাকর্মীরা আসতে পারেননি।
হামলার ঘটনায় পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে সভাস্থলে পুনরায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে একটি মিছিল বিএনপির সভাস্থল অতিক্রমকালে মিছিল থেকে কিছু কর্মী মাঠে ঢুকে পড়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া করে। এ সময় তারা মঞ্চের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং চেয়ার ভাঙচুর করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে হামলাকারীদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেয়। ধাওয়ার মুখে উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা দৌড়ে সভাস্থল ত্যাগ করলেও হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তারা মাঠে ফিরে।
এই প্রসঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো. শাহানুর হক ব্যাপারী বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কিংবা ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়। এ ঘটনাটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে হয়েছে। বরং তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনা আমাদের কাঁধে তুলে দিতে চাচ্ছেন তারা।’






