গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবিতে আধাবেলা হরতাল পালিত হয়েছে। এ সময় দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
এ সময় মহিমাগঞ্জ চৌমাথা মোড়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে হরতাল সমর্থকরা। গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউনিয়নের সিংজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল বাতিলসহ কেন্দ্রটিতে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবিতে পরাজিত তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ডাকে এ হরতাল পালিত হয়। তবে সকাল থেকেই মহিমাগঞ্জ এলাকায় পুলিশ টহল দেখা গেছে।
চৌমাথা মোড়ে এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওই কেন্দ্রে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। সিংজানি কেন্দ্রে নৌকার কোনো এজেন্টকে থাকতে দেয়া হয়নি। সকাল ১০টার পর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোট গ্রহণে দায়িত্বরতদের সহায়তায় প্রভাব বিস্তার করে ব্যালট পেপারে সিল মারেন নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম প্রধানসহ তার লোকজন। এ কারণে কেন্দ্রটিতে অন্যান্য প্রার্থীর প্রতীকে কম ভোট দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
নির্বাচিত নৌকার বিদ্রোহী আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান সাত হাজার ৩১৪ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী অপর তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কাদির ছয় হাজার ৫৫১, নৌকার মুন্সি রেজওয়ানুর রহমান পাঁচ হাজার ৩০৯ ও রুবেল আমিন চার হাজার ৬৯৬ ভোট পান।
মুন্সি রেজওয়ানুর রহমান অভিযোগ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ প্রধানের গ্রামের বাড়ি মহিমাগঞ্জে। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তার পরাজয় ঘটে। বিদ্রোহীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীর আচরণগত সমস্যা ও নির্বাচনের আগে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় তিনি পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট সম্পন্ন হয়। জনগণের ভোটেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তারা মনগড়া অভিযোগে অশান্তি তৈরির পাঁয়তারা করছেন।
ইউএনও আবু সাঈদ বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। মহিমাগঞ্জের ওই কেন্দ্রেও কোনো সমস্যা হয়নি।