কুড়িগ্রামের উলিপুরে চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তিন দিন পর ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাথরুম থেকে এসব ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়।
ধামশ্রেণী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের অভিযোগ গত রোববার ভোট গ্রহণের দিন নানা অনিয়ম করেন সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল দিতেও নানা টালবাহানা করা হয়। পরে প্রার্থীদের তোপের মুখে রাত ১০টার দিকে ফলাফল প্রকাশ করেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। গতকাল ওই ওয়ার্ডের পরাজিত সদস্য প্রার্থী মাহবুবর রহমান এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভদ্রপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের বাথরুম খুলে তার ভেতরে প্রায় ৫০-৬০টি চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত প্রার্থীর ব্যালট দেখতে পান। একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে বাথরুম থেকেও বেশ কিছু ব্যালটের ছেঁড়া টুকরা উদ্ধার করে এলাকাবাসী।
সদস্য পদে ভ্যানগাড়ি প্রতীকের এজেন্ট মরিয়ম আক্তার মনি সাংবাদিকদের বলেন, এক ব্যক্তি ব্যালট বই নিয়ে বাথরুমে যায়। এ ব্যাপারে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানালে তিনি আমলে নেননি। আমি বাথরুমের কাছে গেলে এক কর্মকর্তা আমাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন।
পরাজিত সদস্য প্রার্থী মাহবুবার রহমান অভিযোগ করে বলেন, বাথরুমের ভেতরে পুড়ে যাওয়া ব্যালটসহ শতাধিক ব্যালট পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ভোটের সাথে ব্যালট পেপারের হিসাবে গরমিল রয়েছে।
ধামশ্রেণী ইউনে নৌকার পরাজিত প্রার্থী সিরাজুল হক সরদার বলেন, এ কেন্দ্রে একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে প্রিজাইডিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব কাজ করেছেন তিনি।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো: জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।



