পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা করে হত্যা চেষ্টাকারী চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্যকর্মী রাসেল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরতলীর মাথাভাঙ্গা ব্রিজের ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার রাসেল হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের দক্ষিণপাড়ার সাগর আলীর ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস বলেন, ‘বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের মেইন পয়েন্ট মাথাভাঙ্গা ব্রিজের ওপর থেকে অভিযুক্ত রাসেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মাহাব্বুর রহমান কাজল জানান, ‘পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী স্বাস্থ্যকর্মী রাসেল হোসেনকে গ্রেফতারে আমরা গত দুইদিন যাবত যৌথ অভিযান চালাচ্ছি। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো। রাসেলের কাছ থেকে সাংবাদিক আহসান আলম থেকে ছিনিয়ে নেয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণের আংটি উদ্ধারে আমাদের টিম কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, গত রোববার (২ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রাসেল হোসেন পত্রিকায় খবর প্রকাশের জের ধরে আহসান আলম নামের স্থানীয় এক সাংবাদিকের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালান। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে ওই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করেন স্বাস্থ্যকর্মী রাসেল।
গুরুতর আহত সাংবাদিক আহসান আলম চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও জাতীয় পত্রিকা দৈনিক নয়া শতাব্দী’র জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে আহসান আলমের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সবশ্রেণির মানুষ অভিযুক্ত রাসেলকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে তাকে গ্রেফতারের পর চুয়াডাঙ্গায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।



