শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫নং ওয়ার্ডের ২২নং দুলুখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। দফায় দফায় ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে এ হামলা করা হয়। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ১০ জনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৪৩ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। পরে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কর্মকর্তা।

ভোটকেন্দ্র দখল করে আগুন ধরিয়ে দেয়ার বিষয়ে (আনারস) প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল হক সিকদার তার প্রতিপক্ষ চশমা প্রতীকের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বেপারীর লোকজনকে দায়ী করেছেন।

পুলিশ ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, বুধবার সকালে শরীয়তপুরের নড়িয়ার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদে পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শহীদুল ইসলাম সিকদার (আনারস) ও দেলোয়ার হোসেন বেপারী (চশমা)।

দুপুর ২টার দিকে শতাধিক দুর্বৃত্ত প্রথমে ওই ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় শতাধিক ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। নির্বাচনী কেন্দ্রে থাকা দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যালট বাক্স ও সরকারি মালামাল রক্ষার্থে পুলিশ ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ পিছু হটলে সন্ত্রাসীরা স্কুলের দরজা-জানালা ভেঙ্গে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করে।

অগ্নিসংযোগে ভোটের বাক্স, স্কুলের আসবাবপত্র ও বাইরে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ভোট দিতে আসা অন্তত পাঁচজনসহ ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আরো ১০ জন আহত হয়েছে।

আনারস প্রতীকের প্রার্থী শহীদুর হক সিকদার বলেন, আমার বিজয় নিশ্চিত ভেবে প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখল করে আগুন দিয়েছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ধিক্কার জানাই।

চশমা প্রতীকের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বেপারী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি বা আমার কর্মী-সমর্থরা এই ঘটনার সাথে জড়িত না।

রিটার্নিং অফিসার শরীফ মো: ফয়সাল জানায়, দফায় দফায় ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। অবশেষে দুপুর ২টার দিকে চারদিক থেকে ককটেল বোমা হামলা ও গুলি করে ভোটকেন্দ্র দখল করে। পরে ভোট কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাসীরা ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ও গুলি ছুঁড়ে ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। অপরদিকে পুলিশ ৪৩ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে ভোটকেন্দ্র রক্ষার চেষ্টা করে। পুলিশের গুলি শেষ হয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।