মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নে নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম সালাউদ্দিন মাস্টার। এর জেরে তার সমর্থকদের হামলায় অপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এখলাসুর রহমানের পাঁচ সমর্থক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এখলাসুর রহমানের সমর্থকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সালাউদ্দিন মাস্টারের সমর্থকরা হামলা করে অন্তত ৩টি গাড়ি ভাঙচুর ও ১০ বসতবাড়িতে লুটপাট করে।
এর আগে বুধবার সারাদেশের পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে টেংগারচর ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান জয় লাভ করেন। বর্তমান চেয়ারম্যান ও আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন মাস্টার ও চশমা প্রতীকের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী এখলাসুর রহমান নির্বাচনে হেরে যান।
বৃহস্পতিবারের হামলায় আহতরা হলেন শাহ আলম (৪০), মিজানুর রহমান (৩৫), বারেক মিয়াজী (৪৫), দুলাল মিয়া (৫০), রূপা বেগম (৩২)।
এই ঘটনায় এস এম সালাউদ্দিন মাস্টারকে আটক করেছে পুলিশ।
টেংগারচরে পরাজিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এখলাসুর রহমান জানান, ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম সালাউদ্দিন মাস্টার এবং তিনি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি এবং সালাউদ্দিন মাস্টার উভয়ে হেরেছেন। ভোটের হিসাবে তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তবে নির্বাচনে হারার কারণ হিসেবে সালাউদ্দিন মাস্টারের সর্মথকরা তাকে দায়ী করে আসছেন। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে তার বাড়িতে সালাউদ্দিন মাস্টারের উপস্থিতিতে তার কয়েক শ’ সমর্থক হামলা চালায়।
এখলাসুর রহমান বলেন, সালাউদ্দিন মাস্টারের সমর্থকরা তার বাড়িসহ অন্তত নয় সমর্থকের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত তার দুইটি প্রাইভেটকার এবং একটি মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। এ সময় তাদের হামলায় আহত হয় তার পাঁচ সমর্থক। আহতদের মধ্যে শাহ আলম ও মিজানুর রহমানের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে চিকিৎসক।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রইছ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম সালাউদ্দিন মাস্টারসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ইমামপুর ও ভবেরচর ইউনিয়নেও।
ষোলআনী গ্রামে ইমামপুর ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহর ছয় সমর্থকের বাড়ি ভাঙচুর এবং ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুর, সাত কাহনিয়া গ্রামের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তার হোসেনের চার সমর্থকের বাড়িঘরে ভাঙচুর করার খবর পাওয়া গেছে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।






