বিদেশে পাঠানো এবং বেতনের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বেড়া উপজেলার দুর্গম চরসাফুল্লা গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে তোতা ব্যাপারী (৬৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৭ জন আহত হয়।
শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত তোতা ওই গ্রামের মৃত আহেজ ব্যাপারীর ছেলে।
আহতদের মধ্যে মো. মকবুল ব্যাপারী, বাতেন মেম্বর, নিকবার আলী ব্যাপারী, মুন্নাফ ব্যাপারী, আব্দুল আজিজ ব্যাপারী, রুশনাই খাতুন, জিয়া ব্যাপারী, বছির উদ্দিন ব্যাপারী, আখের আলী, মজিবর রহমান ব্যাপারী, আরিফ হোসেন ব্যাপারী, রমজান আলী ব্যাপারীকে বেড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আখের আলীকে পাবনা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বেড়া উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আবু দাউদ জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার চরসাফুল্লা গ্রাম সরেজমিন ঘুরে দেখেছি। গ্রাম্য প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করে বলেছি আবার যেন সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে।
গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে চরসাফুল্লা গ্রামের শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে নিহত তোতা মিয়ার ছেলে আখের আলী আরব আমিরাতে যান। সেখানে আখের আলী ১৮ মাস কাজ করার পর নয় মাসের বেতন পান। বাকি নয় মাসের বেতন না পাওয়ার কারণে খরচ চালাতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। শফিকুল সেখানে থেকে যান। দেশে এসে আখের আলী শফিকুলের পরিবারের কাছে তাকে চাকরির নয় মাসের টাকাসহ বিদেশে পাঠানো বাবদ সাড়ে সাত লাখ টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে র্দীঘদিন ধরেই উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ আসছিলো।
শুক্রবার সকালে দুই পরিবারের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধলে উভয় পক্ষের ১৭ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তোতা মিয়াকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃতু ঘোষনা করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ওসি জানান, মামলার প্রস্ততি চলছে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযানে নেমেছে পুলিশ।






