ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার জেরে পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে এই খবর জানা যায়।
শনিবার ভোরে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত শৈলকুপার সাড়ুটিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
জানা যায়, ৫ জানুয়ারি সারাদেশের পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ২৯ ডিসেম্বর সাড়ুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ি বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী, আওয়ামী লীগের নৌকার মাহমুদুল হাসান মামুন ও স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের সৌম্য কায়সার টিপুর সমর্থকরা একত্রে প্রচারণায় যান। প্রচারণার সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয়পক্ষের সমর্থকরা।
এই ঘটনায় সাতজন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আবদুর রহিমকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, নিহত আবদুর রহিম তার সমর্থক। প্রতিপক্ষ আনারসের সমর্থকরা তাকে হত্যা করেছেন।
অপরদিকে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৌম্য কায়সার টিপু জানান, এটি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সাতদিন আগে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আবদুর রহিম আহত হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুনেছি আজ ভোরে তিনি মারা গিয়েছেন।’
এর আগেও এই ইউনিয়নে দুই দলের নির্বাচনী সহিংসতায় আরো তিন জনের মৃত্য হয়।
অপরদিকে শৈলকুপা উপজেলার ১০ নং বড়বাড়ি বগুড়া ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে কল্লোল খন্দকার (৪০) শনিবার বেলা ১২টায় হত্যা করা হয়েছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান শফিকুল ইসলাম শিমুলের সমর্থক একই গ্রামের বাসিন্দা শওকত, নায়েব, রফি, শফিসহ ১০-১২ জনের একটি দল কল্লোকে গ্রামের পেঁয়াজের ক্ষেতে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে।
আহত অবস্থায় তাকে শৈলকুপা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহত কল্লোল সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।
দুই দলের দীর্ঘাদিনের বিরোধ ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শৈলকুপা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যার খবর পেয়েছি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।






