চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ ও কোপাকুপির ঘটনায় নারীসহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার উথলী ফার্মগেট পাড়ায় এই সংঘর্ষ হয়।

এলাকাবাসী জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাহেন এবং তার দুই ছেলে রিয়ন ও সুলতান চিড়ার মিলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাহেনের ভাই আলী আকবার (৬৫), খায়রুল ইসলাম (৫৫), আলী আকবারের ছেলে আবুল কালাম (২৮), ওমর ফারুক ওরফে কালু (২২), খাইরুলের ছেলে দাউদ (২৫), রাহেনের অপর ভাই আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাজু (১৮) সংঘবদ্ধ হয়ে রাহেন ও তার দুই ছেলেকে রাস্তায় আটকিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে। এই সময় তারা পল্লী চিকিৎসক সেলিমের ওষুধের দোকানে আশ্রয় নেয়। কিন্তু হামলাকারীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই ওষুধের দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে তাদেরকে মারপিট করে এবং ওষুধের দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
পল্লী চিকিৎসক সেলিম জানান, হামলাকারীরা শুধু তার দোকানই ভাংচুর করেনি,ক্যাশবক্সে থাকা ২০-২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে হামলার ঘটনাটি উভয়পক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্ট হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে দশজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে মারাত্মক অবস্থায় উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি আহতরা হলেন, রায়হান ওরফে রাহেন (৪৫), খায়রুল ইসলাম (৫৫), রিয়ন হোসেন (১৭), সুলতান (১৬), গৃহবধু মুসলিমা খাতুন (৪৫) ও দাউদ হোসেন (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাহেন ও তার ছেলেরা কারো ওপর হামলা করেনি। কারণ তারা খালি হাতে বাড়ী ফিরছিলেন।

তবে প্রতিপক্ষ খায়রুল ইসলামের স্ত্রী মুসলিমা খাতুনের দাবী তার স্বামী ও ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

বিরোধে যাওয়া ভাইদের মা ভাদিরন নেছা বলেন, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার ছোট ছেলে রাহানের বাড়ীতে থেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমার বড় ছেলে আলী আকবর,খায়রুল ইসলাম ও রাজ্জাকেরা আমাকে খোঁজখবর নেয় না। আমি কয়েক শতক জমি ছোট ছেলে রাহানের নামে লিখে দিই। সেই জমিকে ঘিরে তারা ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা রাতে আমার ছেলে রাহান ও তার ছেলেরা বাড়ী ফিরে যাওয়ার সময় আলী আকবরসহ আমার অন্য ছেলেরা তাদেরকে হামলা চালিয়ে আহত করে।’

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, উথলীতে ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ঘটনা শোনা মাত্র সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখনও পর্যন্ত ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালায়।