কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের পালাকাটা রাবার ড্যাম দিয়ে পারের অপেক্ষায় রাখছে দুটি শক্তিশালী বলগেট ও দুটি ড্রেজার। এগুলো পার হলেই লবণপানি প্রবেশ করে নষ্ট হতে পারে ৬০ হাজার একর জমির রকমারি ফসল। এতে করে শঙ্কা ও দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের।
জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়ায় পালাকাটা রাবার ড্যামের পাশে গত পাঁচ দিন ধরে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি শক্তিশালী বলগেট ও দুটি বড় ড্রেজার এনে রেখেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। জোয়ারের সময় যে কোনো মুহূর্তে রাবার ড্যাম নিচু করে ড্রেজারগুলো ভেতরে প্রবেশ করানোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মহলটি। বলগেট ও ড্রেজারগুলো প্রবেশ করালেই ঢুকে পড়বে লোনাপানি। আর এমনটি হলে নষ্ট হবে প্রায় ৬০ হাজার একর জমির রকমারি ফসল।
ইতোমধ্যে চকরিয়ার একজন জনপ্রতিনিধি কয়েকবার ফোন করে রাবার ডেম ডাউন করতে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মচারী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। উপজেলার চিরিঙ্গা, সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, পূর্ববড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী ও বদরখালীর অনেক কৃষক শঙ্কা প্রকাশ করে বলে, রাবার ড্যাম প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে শত শত একর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় চলে এসেছে। চলতি বোরো মৌসুমে রাবার ড্যামের পানি সরবরাহের ফলে শত শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। পানি সঙ্কট না থাকায় শুকনো মৌসুমে ধান উৎপাদন করে দ্বিগুণ লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। পানি সেচ জমিতে সময় মতো সরবরাহ করতে পারায় ধানক্ষেত সবুজে সবুজে ভরে গেছে।
কিন্তু চকরিয়ার এক প্রভাবশালী নেতার ভাড়া করা দুটি শক্তিশালী ড্রেজার ও দুটি বলগেট ড্রেজার রাবার ড্যামের পাশে নিয়ে এসেছে। তারা রাবার ড্যাম নিচু করে ড্যামের উপর দিয়ে বলগেট ও ড্রেজারগুলো বলগেট ও ড্রেজারগুলো পারের চেষ্টা করছেন। কোনো কারণে রাবারের উপর দিয়ে এসব ড্রেজার আনা হলে ড্রেজারের আঘাতে ব্যাগটি ফুটো হওয়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে তেমনি লবণাক্ত পানিও প্রবেশ করবে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পালাকাটা রাবার ড্যাম ও বাঘগুজারা রাবার ড্যাম সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়। ব্যুারা মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদ নির্ভর করে দুইটি রাবার ড্যাম সেচ প্রকল্পের পানির উপর। বর্তমানে রাবার ড্যামের ভেতর যে পরিমান মিঠা পানি আছে তা পুরো মৌসুমের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় যদি কোনো কারণে রাবার ডাউন (নিচু) করা হয় তাহলে, পুরো এলাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হতে পারে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও শাহ আরমান সালমান বলেন, পালাকাটা রাবার ড্যামের পাশে গত চার-পাঁচ দিন ধরে বালু উত্তোলনের দুটো বলগেট ও দুটো বড় ড্রেজার মেশিন দেখতে পাচ্ছি। এগুলো ভেতরে ঢুকানোর বিষয়ে এখনো কেউ যোগাযোগ করেছে বলে আমার জানা নেই। ব্যুরো মৌসুমের এই মুহূর্তে কোনো অবস্থাতেই রাবার ডাউন করার সুযোগ নেই। রাবার ব্যাগ ডাউন করে ড্রেজার ও বলগেটগুলো না ঢুকানোর জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।