রাজবাড়ীতে দ্রুত বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৮৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে রাজবাড়ীতে ৫৬ জন রোগীর করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

এর আগে পরপর তিনদিনই ৪২ জন করে করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। ওই তিনদিন জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মাত্র ১২৬ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

জেলায় গত ৫ দিনে নমুনা পরীক্ষার প্রায় অর্ধেক রোগীর শরীরে করোনা সনাক্ত হয়েছে। ফলে বেশি হারে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সচেতনতা বাড়ছে না সাধারণ মানুষের মধ্যে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যেও নেই তেমন তৎপরতা।

এ সময় কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি রোগী ও তাদের স্বজনদের। সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে একজনের সাথে অন্যজন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছে ডাক্তার দেখানোর জন্য। এদের মধ্যে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধ।

শুক্রবার ছুটির দিনেও রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ, চিকিৎসকদের রুমের সামনে, ওয়ার্ডে, ওষুধ নেয়ার স্থান ও হাসপাতালের বাইরে এমন চিত্র দেখা গেল।

এদিকে গত কয়েকদিন হু হু করে বাড়ছে রাজবাড়ীতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কিন্তু সে তুলনায় জনগণকে সচেতন হতে দেখা যায়নি। জেলা শহরসহ প্রতিটি স্থানের হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, দোকানে রয়েছে জনগণের স্বাভাবিক চলাচল।

তাছাড়া প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলছে সামাজিক অনুষ্ঠান। শহর এলাকায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাস্ক কিছুটা পড়লেও গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাস্ক পড়ার প্রবণতা নেই বেশিভাগের মানুষের মধ্যে।

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কিছু কিছু স্থানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ হতে জনসচেতনা ও মাস্ক বিতরণ করতেও দেখা যায়। তবে গত কয়েকদিনে জেলায় উল্লেখজনক হারে করোনায় আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুধীজনরা।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৬ জানুয়ারি রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল, গোয়ালন্দ ও পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ২৪ জানুয়ারী ৮০ জনের মধ্যে ৪০ জন, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি ১২২ জনের মধ্যে ৪২ জনের কোভিড পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে।

এখন পর্যন্ত জেলায় ১০ হাজার ৭৬১ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ৭২ জন। বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে ১ জন ও হোম আইসোলেশনে ১৮১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা বাবু মিয়া জানান, তিনি তার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে সদর হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু হাসপাতাল ভর্তি মানুষ। একজনের সাথে আরেকজনকে গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হচ্ছে।