চাঞ্চল্যকর মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় আজ সোমবার দুপুরে ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম। এই মুহূর্তে কক্সবাজার আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আদালতের সব প্রবেশ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, ওসি প্রদীপসহ সকল আসামিদের আজ সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে বের করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে নেয়া হয়েছে। আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের ভীড়। ওসি প্রদীপের ফাঁসি চেয়ে মানববন্ধন চলছে।
গত ১২ জানুয়ারি রায় পূর্ববর্তী মামলার সকল কার্যক্রম শেষ করে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিলেন। ঘটনার বরাবর এক বছর ছয় মাসের মাথায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মাঝেও এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় প্রদান করা হচ্ছে।
মামলার সাক্ষ্য, জেরা, আলামত প্রদর্শন, রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা, ৩৪২ ধারায় আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক, উভয়পক্ষের সমাপনী বক্তব্যসহ এ মামলার সকল বিচারিক কার্যক্রম এর আগে ৮ পর্বে ৪০ কার্যদিবসে সমাপ্ত করা হয়।
ঘটনা ও মামলা :
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মারিশবনিয়া এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
পুলিশের গুলিতে মেজর (অব:) সিনহা হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তখন ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তখন নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খানের গাড়ি থেকে কিছু ইয়াবা, গাঁজা ও মদ উদ্ধারের কথা বলে পুলিশ। ঘটনার পরদিনই পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন 'রাওয়া' এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সোচ্চার হয়, গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় জনগণও প্রতিবাদী হয়ে উঠে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের এসপি সহ প্রায় ১৪০০ সদস্যকে অন্যত্র বদলি করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ নিজেরা বাদি হয়ে পরদিন ১ আগস্ট টেকনাফ থানায়। দুটি ও রামু থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
পরে নিহত মেজর (অব:) সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ২০২০ সালের ৫ আগস্ট পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে নয়জনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নেয়ার পর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ র্যাব-১৫ কে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে বিজ্ঞ বিচারকের এ নির্দেশ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়।
মামলার আইও :
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী র্যাব-১৫ প্রথমে তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) হিসাবে সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ জামিলুল হককে নিয়োগ দেন। এএসপি জামিলুল হক ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত শুধুমাত্র আট দিন এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম ২০২০ সালের ১৪ আগস্ট থেকে শেষ অবধি দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলার আইও মোঃ খায়রুল ইসলাম বর্তমানে র্যাব সদর দফতরে গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত আছেন।
তদন্ত, চার্জশীট ও চার্জশীটের বক্তব্য :
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষী সহ আলোচিত মামলাটির চার্জসীট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকান্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে, পুলিশের দায়ের করা তিনটি মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায়, বিচারের জন্য কোনো উপদান না থাকায় আদালতে মামলা গুলোর 'চুড়ান্ত রিপোর্ট' দেয়া হয়।






