চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আনোয়ার আলী (৫৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
নিহত আনোয়ার ধর্মপুর ইউনিয়নের কুন্ডরকুল এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয় জন।
উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের চাঁদেরপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শিবলী নোমান, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিলসহ পুলিশের একটি দল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ধর্মপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী (আনারস প্রতীক) তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল সহকারে চাঁদেরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাছির উদ্দিন টিপুর কর্মী-সমর্থকেরা দুই দিক থেকে ও সড়কের পাশের ভবনের ছাদ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর মিছিলে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক আনোয়ার আলী হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াছ চৌধুরীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আনোয়ার আলীকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন ধর্মপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন (৪৫), আহমদুর রহমান (৫০), গিয়াস উদ্দিন (২৯), নারী ইউপি সদস্য প্রার্থী ফারহানা নাছরিন (৪৫), মোহাম্মদ হারুন (৪৩) ও আনজু আক্তার (৪২)।
নৌকার প্রার্থী নাছির উদ্দিন (টিপু) জানান, আমাদের কোনো লোক ইলিয়াছ চৌধুরীর প্রচারণায় হামলা করেনি। তারা অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রচারণায় বের হয়েছিলেন। প্রচারণার সময় ইলিয়াছ চৌধুরীর লোকজন বোরকা পরিহিত অবস্থায় অস্ত্র ও দা-কিরিচ নিয়ে বের হয়। তাদের হামলায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা কামাল উদ্দিন ও আহমদুর রহমান আহত হয়েছেন। যিনি মারা গেছেন কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে আমরা বলতে পারি না।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকির কারণে এতদিন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় বের হতে পারিনি। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে চাঁদেরপাড়া এলাকায় প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় বের হই। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকেরা ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন ভবনের ওপর থেকে ইট ছুঁড়ে মারলে আমার সমর্থক আনোয়ার আলী বুকে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাছাড়া মহিলা ইউপি সদস্য প্রার্থী ফারহানাসহ আরো কয়েকজন আহত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন সড়কের দুই দিকে পাহারা বসানোর কারণে আহত ব্যক্তিদের যথাসময়ে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি। বিকেলের দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স এনে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আনোয়ার আলী মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজী সোহান জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে আনোয়ার আলী নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে উক্ত ঘটনায় আহত নারীসহ পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সাতকানিয়া থানা পুলিশের বক্তব্য নেয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।



