চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চেয়্যারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) আফরুজুল হল টুটুল, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান, সাতকানিয়া ওসি কর্মকর্তা আবদুল জলিলসহ পুলিশের একটি দল। এ দিকে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এ দিকে সন্ধ্যায় নিহতের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে চাঁদেরপাড়া এলাকায় নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক আনোয়ার আলী (৫৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়। তিনি ধর্মপুর ইউনিয়নের কুণ্ডকুল এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয়জন।
জানা যায়, ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়্যারম্যান মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল সহকারে চাঁদেরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাছির উদ্দিন টিপুর কর্মী-সমর্থকরা দুই দিক থেকে ও সড়কের পাশের ভবনের ছাদ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে ইটপাটকেল ছুড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী -সমর্থক আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ চৌধুরীর বাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেলে আহত আনোয়ার আলীকে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে নৌকার প্রার্থী নাছির উদ্দিন (টিপু) বলেন, আমার কোনো লোক ইলিয়াছ চৌধুরীর প্রচারণায় হামলা করেনি। তারা অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠি নিয়ে প্রচারণায় বের হয়েছিল। তাদের অতর্কিত হামলায় আমার পক্ষের কামাল উদ্দিন ও আহমদুর রহমান আহত হয়েছেন। তবে যিনি মারা গেছেন তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না।
সংঘর্ষের বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, গত মঙ্গলবার বেলা ৩টায় চাঁদেরপাড়া এলাকায় প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় বের হই। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকেরা ইট-পাটকেল ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। নৌকার প্রার্থীর লোকজন ভবনের উপর থেকে ইট ছুড়ে মারলে আমার এক সমর্থক আনোয়ার আলী বুকে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তা ছাড়াও মহিলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য প্রার্থী ফারহানাসহ কয়েকজন আহত হন। পুলিশের উপস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স এনে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আনোয়ার আলী হাসপাতালে মারা গেছেন।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। ঘটনায় নিহত ব্যক্তি কী কারণে মারা গেছে তা এখন বলা সম্ভব নয়। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সাতকানিয়ায় আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কায় থমথমে অবস্থা
নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চেয়্যারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি...



