দামুড়হুদায় ভারতীয় সুন্দরী জাতের কুলচাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন উপজেলার বেশ কিছু উৎসাহী তরুণ ও যুবকেরা। উপজেলার চিতলা ও দেউলি গ্রামের বেশ কিছু মাঠে এ কুল চাষ শুরু হয়েছে।

উপজেলার চিতলা গ্রামের কৃষক বজলু মিয়ার ছেলে আ: সামাদ (৩৩) এইচএসসি পাস করে বাড়িতেই ছিলেন। চাকরির পিছনে না ছুটে তিনি বেছে নেন কৃষিকাজ।

তরুণ কৃষক সামাদ জানান, লোকমুখে তিনি জানতে পারেন যে, যশোরে ভারতীয় ‘সুন্দরী’ কুলচাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বি ও লাভবান হয়েছেন। সে মোতাবেক যশোর থেকে ঐ জাতের কুলের চারা সংগ্রহ করে প্রথমে এক একর (৩ বিঘা) জমিতে চাষ শুরু করেন। ৩ মাসের মাথায় গাছে ফুল ও ফল আসে। ফল আসার ২৫-৩০ দিন পর থেকে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ মন করে কুল তুলে বিক্রি শুরু করেছেন।

সাংবাদিকদের তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন। এখনো প্রায় ২ লাখ টাকার কুল গাছে আছে বলে ধারণা করছেন।

তরুণ কৃষক সামাদ আলির বাবা বজলু মিয়া জানান, ৩ বিঘা জমিতে ৯ শ’ কুলের চারা লাগানো হয়েছে। এ জাতের কুল গাছে কোনো কাটা নেই, ফলে সহজেই পরিচর্যা করা ও কুল তোলা যায়।

তিনি বলেন, মাস খানেক পরে এ মৌসুমের কুল তোলা শেষ হয়ে যাবে। ওই সময় ডাল ছেটে কলমের চারা তৈরি করে প্রায় ২-৩ হাজার কলম করা কুলের চারা বিক্রি করা সম্ভব হবে। সেখানেও একটি প্রফিট আশা করা যায়। সুমিষ্ট ও সুস্বাদু ভারতীয় ‘সুন্দরী’ কুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাজারে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির জানান, তরুণ ও উদীয়মান কৃষক সামাদসহ যারাই এ ধরনের চাষ করে লাভবান হতে চলেছে তাদের সকলকেই সার্বিকভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সহায়তা করে যাচ্ছে।