নরসিংদীর পলাশে গোপনে অন্য মেয়েকে বিয়ে করায় চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে মীর মাইনুল হক (২৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করেছে ইসরাত জাহান মিম নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমনটাই জানিয়েছে ঘাতক ওই প্রেমিকা। এর আগে গত শনিবার বিকেলে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ঘোড়াশাল বাজারে টুথ অফিস নামে একটি ডেন্টাল চেম্বার থেকে মাইনুলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পলাশ থানা পুলিশ। নিহত মীর মাইনুল হক ঘোড়াশাল দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ফেলু মীরের ছেলে। সে ঘোড়াশাল মুসা বিন হাকিম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পাশাপাশি ঘোড়াশালে টুথ অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল। পুলিশ জানায়, নিহত মাইনুল হকের সাথে ঘোড়াশাল খিলপাড়া গ্রামের বাদল মিয়ার মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহান মিমের দীর্ঘ দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মাইনুল হক গোপনে অন্য মেয়েকে বিয়ে করায় তা মেনে নিতে পরেনি ইসরাত জাহান মিম। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা করার কথা বলে মোবাইল ফোনে মিম মাইনুলকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরে ডেন্টাল অফিসে গিয়ে আগে থেকে কিনে রাখা চেতনানাশক ইনজেকশন মাইনুলের শরীরের পুশ করে। এতে মাইনুল অচেতন হয়ে পড়লে ডেন্টাল ক্লিনিকের ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে চেম্বারের প্রধান দরজা তালাবদ্ধ করে রাখে ঘাতক মিম। এ দিকে বিয়ের পাঁচ দিনের মাথায় স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহত মাইনুলের স্ত্রী শ্রাবন্তী বেগম। শ্রাবন্তী বেগম কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভালোবেসে তাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়। মাইনুল ইসরাত জাহান মিমের সাথে একই কলেজে পড়শোনা করত। তার সাথে আগে প্রেমের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না তা জানা ছিল না। এ বিষয়ে কখনোই মাইনুল কিছু বলেনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে চেম্বারে যাওয়ার কথা বলে মাইনুল বাড়ি থেকে বের হয়। রাত হয়ে গেলে বাড়ি না ফেরায় তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তার নাম্বার বন্ধ পেয়ে চেম্বারে গিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পাই। পরে এক দিন পার হলে না পেয়ে থানায় নিখোঁজের জিডি করি। শেষ পর্যন্ত স্বামীর লাশ ফেরত পেলাম।
নিহতের বড় বোন সুবর্ণা ইয়াসমিন মনি বলেন, মাইনুলের বান্ধবী ইসরাত জাহান মিম পড়াশোনার পাশাপাশি ঘোড়াশাল হেলথ কেয়ার নামে একটি ডায়গনস্টিকে নার্সের চাকরি করত। শুনেছি গত পাঁচ মাস আগে সেখানে ডায়গনস্টিকের মালিকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে তাকে বিয়েও করে। আবার বিয়ের দুই মাস পর তাদের ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। কিন্তু মাইনুলের সাথে প্রেমের সম্পর্কের বিষয় আমরা কেউই কিছুই জানতাম না। আমরা এই হত্যার কঠিন বিচার চাই।
পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, নিহতের লাশ উদ্ধারের পর তদন্ত নামে পুলিশ। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে ইসরাত জাহান মিমকে গ্রেফতার করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।